শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৫

শেষ দুটি ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন কামারুজ্জামান । তার কোন ইচ্ছায় পূরণ করল না কর্তৃপক্ষ ।

মৃত্যুর আগে সরকারের কাছে


শেষ দুটি ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন কামারুজ্জামান । তার কোন ইচ্ছায় পূরণ করল না কর্তৃপক্ষ ।
বিধি অনুযায়ী ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের রায় কার্যকরের আগ মুহূর্তে শেষ ইচ্ছা পূরণ করে কারা কর্তৃপক্ষ । একই নিয়মানুযায়ী কামারুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হয় মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছা কী ? এ সময় তিনি ইচ্ছা পোষণ করেন, 
১ । শুক্রবার যেন তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় এবং 
২ । মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর তার সুরতহাল রিপোর্ট শেষে গোসল না করিয়ে যেন পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর বা দাফন করা হয় । 

ফাঁসির মঞ্চেও হাসলেন কামারুজ্জামান

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে।
ফাঁসি কার্যকরের সময় তিনি ফাঁসির মঞ্চে হেঁটে যান এবং ফাঁসি দেয়ার কয়েক মিনিট আগে জল্লাদ এর সাথে হেসে হেসে কথা বলেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে। 
কারাসূত্রে আরো জানা যায়, এর আগে শেষ খাবার হিসেবে মুরগির মাংস ও ইলিশ মাছ দিয়ে সাদাভাত খেয়েছেন কামারুজ্জামান।
তার আগে গোসল করেন। এরপর কেন্দ্রীয় কারাগারের পেশ ইমাম মো. মনিরুল ইসলাম কনডেম সেলে গিয়ে তাকে তওবা পড়ান।
এর আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় তার।
রাত ১০ টার পরে কার্যকর করা হয় ফাঁসি।

মা লি ক, তুমি জান্নাতে তোমার কাছে আমার একটি ঘর বানিয়ে দিও ।

[মুহাম্মাদ কামারুজজামান এখন আল্লাহর মেহমান]
মালিক,
মালিক, একটি ঘর বানিয়ে দিও ।
মা লি ক, তুমি জান্নাতে তোমার কাছে আমার একটি ঘর বানিয়ে দিও ।
সে বিভীষিকাময় মহাদিনে, তোমার প্রতিবেশী করে নিও ।

যেদিন কেহ আসবে না কারো কোন কাজে
যেদিন পাপী, পাপের বোঝায় মরবে লাজে ।
পুলসীরাত পার হতে গিয়ে, পিছলে যাবে কতো পথিক
আবার কেহ পুন্য নিয়ে, পার হয়ে যাবে ঠিক ঠিক ।
সে মহাদিনে, মহাক্ষনে পার করে তুমি দিও ।

তুমি দিও, হাউজে কাউসারের পাশে স্থান ।
দিও তুমি, শীতল আরশের নিচে সম্মান ।
প্রিয় রাসুলের, প্রিয় উম্মত উৎরে যাবে মহা বিচার ।
পরম আনন্দে, জান্নাতে সাজাবে নব সংসার ।
সে মহা আনন্দে জান্নাতে, নবীর পাশে জায়গা দিও ।

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৫

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কামারুজ্জামানের সাথে আইনজীবীদের সাক্ষাত

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রিভিউ রায়ে বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ৫টা ৫১ মিনিটে কারাগারে রায়ের কপি পৌঁছায়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী রায়ের কপি গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নিয়ম অনুযায়ী রিভিউ আবেদন খারিজের রায় কামারুজ্জামানকে পড়ে শোনান।
অন্যদিকে ডিফেন্স আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কামারুজ্জামানের সাথে আইনজীবীদের সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় আমরা কামারুজ্জামানের সাথে সাক্ষাৎ করব। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি সাক্ষাতের পর বলতে পারব। 
এর আগে আজ বেলা পৌনে ৩টায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা কামারুজ্জামানের রিভিউ রায়ের কপিতে স্বাক্ষর করেন। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী রায় লিখেন এবং অন্য বিচারপতিরা এতে সম্মতি দেন। বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর রায়ের কপি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়। এরপর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রর অফিস থেকে রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
বিকেল ৪টা ৪৬ মিনিটে আপিল বিভাগের সাহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ মেহেদী হাসান রায় ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোঃ আফতাবুজ্জামান রায়ের কপি গ্রহণ করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতিরা কামারুজ্জামানের রিভিউ রায় গ্রহণ করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বেলা ৫টা ২৮ মিনিটে ট্রাইব্যুরনাল থেকে রায়ের কপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া ফ্যাক্সযোগেও রায়ের কপি কারাগারে পাঠানো হয়। রায়ে কপি ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে পাঠানো হয়। আজ বিকেলে কামারুজ্জামানের রিভিউ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়।
গত রোববার মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের শুনানি গ্রহণ শেষে সোমবার খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। 
২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুাল-২। ওই রায়ে বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন কামারুজ্জামান। গত বছরের ৩ নভেম্বর কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। রায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন আদালত। এরপর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত করা হয়। গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন দায়ের করেন। - See more at: http://dev.dailynayadiganta.com/detail/news/14024#sthash.pjc98xTj.dpuf

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৫

চিন্তা কি, মরলে শহীদ, বাচলে গাজী ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়ার সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল-মুহাম্মাদ কামারুজজামানকে দেখেছিলাম কাশিমপুর কারাগার-২, ফাসির সেল এর ২১ নাম্বার রুমে । আমাকে প্রথম গ্রেফতারের পর কাশিমপুর কারাগারের ফাসির সেল ১১ নম্বার রুমে রাখা হয়েছিলো । সেখানে বসেই ২৮ ফেব্রুয়ারীতে আব্বার বিরুদ্ধে শতাব্দীর নিকৃষ্টতম মিথ্যা অপবাদের, ন্যায়ভ্রষ্ট রায় শুনেছিলাম । সেখানে বসেই  মুহাম্মাদ কামারুজজামান চাচার বিরুদ্ধে দেয়া ন্যায়ভ্রষ্ট রায় শুনেছি । সেদিন ছিলো ৯ মে ২০১৩ । রায়ের দিন সকালে কাশিমপুর ডিভিশন থেকে  কামারুজ্জামান সাহেবকে ট্রাইবুনালে হাজির করে । রায় ঘোষণার পর পরই কাশিমপুর নিয়ে আসে ।
ডিভিশন বাতিল হয়ে যায়, তাকে দেয়া হয় ফাসির সেলে । আমার রুমের ঠিক পেছনের রুমে । সন্ধ্যা হয়ে যাওয়াতে ঐ দিন আমাদের দেখা হয়নি ।
পরদিন বিকালে আমার লকআপ খুললো কিন্তু কামারুজজামানের রুম লক । তিনি বের হতে পারবেন না । ২৪ ঘণ্টা লকআপ, ঊপরের নির্দেশ । আমার ঐদিকটায় যাওয়া নিষেধ করে দেয়া  হলো । মন তো মানে না । চাচাকে দেখতে খুব ইচ্ছা করছে । কি করি ? ৬টায় লকআপ টাইম, এসময় কারারক্ষীদের বদলি হয় । অদল বদলের এক ফাকে চাচাকে দেখে আসলাম । আলহামদুলিল্লাহ, তিনি তখন একবিন্দুও বিচলিত ছিলেন না । তার কথায় কোন দুশ্চিন্তা ছিলো না । তাকে বরং অনেক দৃঢ় মনে হয়েছে । আমি জিজ্ঞেস করলাম কিছু কি লাগবে ? শুধু বললেনঃ দোয়া করো যেন সুস্থ থাকি, দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে কস্ট হয় চেয়ার হলে ভালো হতো । আমি জানালাম চেয়ার নাই, টুল হলে চলবে ? তিনি বললে্‌ চলবে । ব্যাস, রুমে চলে আসলাম । সেবক কে দিয়ে টুল পাঠিয়ে দিলাম । ৯ দিন পর, আমি ১৮ মে জামিন পেলাম । বিদায় নিতে তার কাছে গিয়েছিলাম । আব্বাকে সালাম পৌঁছানোর দায়িত্ব দিয়েছিলো । তারপর আর দেখা হয়নি । আপিল বিভাগে সেই একই রায় । রিভিউ আপিল খারিজ । যে কোন মুহূর্তে কিছু একটা অঘটন ঘটতে পারে । গতকাল থেকে
ইলেক্ট্রনিক্স এবং প্রিন্টিং মিডিয়া অতিমাত্রায় তৎপর ।
আলহামদুলিল্লাহ...
যার মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে হয়তো কয়েক ঘন্টার মধ্যেই চলে যাবেন মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে । তিনি তখন এবং এখনও বিচলিত নন  । হাসিমুখে বিদায় জানাচ্ছেন পরিবারকে ।  বলে দিয়েছেন আল্লাহই সবচেয়ে বড় অভিবাবক । অথচ তাঁকে দিয়ে প্রানভিক্ষা চাওয়ার কতরকম প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে । আইনমন্ত্রী বলছেন মাত্র দুই ঘন্টা সময় পাবেন । টিভিতে দেখানো হচ্ছে কফিন ঢুকছে ।  কাফনের কাপড় ঢুকে গেছে । ফাঁসির দড়ি পরানোর মই কারাগারে ঢুকছে ।
বাইরে অপেক্ষা করছে শত শত পুলিশ ।  সাংবাদিক সহ হাজারো উৎসুক জনতা । কিন্তু যার জন্য এতকিছু হচ্ছে তিনি একদম স্বাভাবিক । তার পরিবার, সন্তানরা স্বাভাবিক ।
একবার ভাবুনতো আল্লাহর কত খালেস বান্দা হলে এমনটা হয়া যায় ।  সত্যের পথে জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে একদল লোক পিছু হটার পথ নেয় আর আরেক দল হয় আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ।  আমরা যেনো আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে পারি । আল্লাহ তায়ালা নবি রাসুল আর পাঠাবেননা কিন্তু তাঁদের কার্যক্রম কি বন্ধ থাকবে... ? কক্ষনো না । যুগে যুগে যারা জান্নাতি পাখি হয়ে চলে গেছে তাঁদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই থাকবে । আল্লাহ যেন আমাদেরকে জান্নাতিদের দলে জায়গা করে দেন । আমিন ।। আর জাহান্নামের লাকড়ি হওয়ার জন্য ফেরাউন, নমরুদ,  আবুজেহেলদের দলে আজকের জালিমেরা যুক্ত হতে থাকবে ।
শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা বলেছেনঃ নাবুয়াতের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, শাহাদাতের দরজা বন্ধ হয়নি । কামারুজ্জামান বললেনঃ যেদিন থেকে ইসলামী আন্দোলনের নাম লিখেছি, সেদিন থেকে শহীদ হওয়ার বাসনা লালন করছি । ক্ষমা চাইবো আল্লাহর কাছে যিনি আমাকে সৃস্টি করেছেন ।
শুধু বলতে চাই, মালিক তুমি জান্নাতে তোমার পাশে আমার একটি ঘর বানিয়ে দিও । 

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৫

যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তোমরা তাদেরকে মৃত বলোনা

হে ঐ সমস্ত লোকেরা, যারা ঈমান এনেছো ! তোমরা সবর করো এবং সালাত দ্বারা সাহায্য শক্তি অর্জন করো । নিশ্চয়ই আল্লাহ সবরকারীদের সাথে থাকেন । যারা "ফি সাবিলিল্লাহ"
আল্লাহর পথে নিহত হয়, তোমরা তাদেরকে মৃত বলোনা; প্রকৃত পক্ষে তারা জীবিত । কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারো না । আর অবশ্য অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা নেবো ভয় ভীতি দিয়ে, ক্ষুধা অনাহার দিয়ে এবং অর্থ সম্পদ, যান প্রান ও ফল ফসলের ক্ষয় ক্ষতি দিয়ে । তবে সুসংবাদ দাও, 'সবর' অবলম্বনকারীদের । যারা বিপদ মুসিবতে আক্রান্ত হলে বলেঃ নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিচশয়ই আমরা তারই কাছে ফিরে যাবো । এরা সেই সব লোক, যাদের প্রতি তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে বর্ষিত হয় ক্ষমা ও করুনা এবং রহমত । আর তারাই হেদায়েত প্রাপ্ত ।
(সুরা আল-বাক্বারাহ-১৫৩-১৫৭)
O you who have believed, seek help through patience and prayer. Indeed, Allah is with the patient. And do not say, about those who are killed in the way of Allah, "They are dead" Rather they are alive, but you perceive it not. And We will surely test you with something of fear and hunger and a loss of wealth, and lives and fruits, but give good tidings to the patient. Who when disaster strikes them, say, " Indeed, we belong to Allah, and indeed to Him we will return." Those are the ones upon whom are blessings from their Lord and mercy. And it is those who are the rightly guided.
(Sura al-Baqarah- 153-157)

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০১৫

বাংলাদেশে ইসলামী পুনজাগরনে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অবদান

বাংলাদেশে ইসলামী পুনজাগরনে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অবদান ।

আরশে আযীমে পৌঁছে গেলো জনকের আবেদন ।
৬ ফেব্রুয়ারী শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী । সেদিন প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে র‍্যালি বের হবে রাজধানী ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউটে শিবির এক সেমিনার আয়োজন করেছিলো । আল্লামা সাঈদী সেই অনুষ্ঠানের ছিলেন প্রধান অতিথি । শহীদ বাগের বাসা থেকে বায়তুল মোকাররম রওনা দিবেন এমন সময় পিরোজপুর থেকে ফোনের মাধ্যমে পৌঁছেছিলো সেই ভয়াবহ
বিশ্ব নন্দিত মুফাসসীরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, তার হৃদয়ের সবটুকু মমতা উজার করে আপন পিতা মাতার খেদমত করতেন । তার সম্মানিত পিতা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী ছিলেন মহান আল্লাহর একনিষ্ঠ প্রেমিক । ফজরের নামাজ আদায় করে তিনি স্থান ত্যাগ করতেন না । কোরআন তেলাওয়াত অথবা হাদীসে বর্ণিত আল্লাহুর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো দোয়া দুরুদ পড়তেন । সূর্য উদিত হবার পরে তিনি ইশরাকের নামাজ আদায় করতেন । তারপর দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর শাহী দরবারে দুহাত উঠাতেন । কলিজার টুকরা সন্তানের জন্য অশ্রু ধারায় বুক ভাসিয়ে আল্লাহর কাছে নিবেদন করতেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার সন্তান দেলাওয়ারকে তোমার পক্ষ থেকে তোমার দ্বীনকে বুঝার মতো জ্ঞান দান করো । তোমার দ্বীনের দাঈ হিসেবে কবুল করে নাও । আমার দেলাওয়ারকে তুমি "সুলতানু্ল ওয়ায়েজীন" বানিয়ে দাও ।
আরশে আযীমের মালিক মহান আল্লাহ তার প্রেমিকের দোয়া মঞ্জুর করে নিয়েছেন । আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার প্রেমিকের সন্তান দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে সুলতানুল ওয়ায়েজীন অর্থাৎ বক্তা সম্রাট বানিয়েছেন । তার পিতা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী (রাহঃ) একবার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার সন্তান দেলাওয়ার মেঘের উপর আসীন হয়ে বক্তৃতা করছেন । মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে এই স্বপ্ন দেখানো হয়েছিলো বলেই ধারনা করা যায় । কারন আল্লামা সাঈদী এমন এক সময়, এমন এক পরিবেশে কুরআনের বিপ্লবী দাওয়াত নিয়ে ময়দানে এসেছিলেন যখন চারিদিকে বিরাজ করছিলো বাতিল সৃষ্ট অন্ধকারের ঘনঘটা । এই অন্ধকার বলিষ্ঠ কদমে দলিত মথিত করে এগিয়ে যাচ্ছেন । যে পিতা প্রানভরে আপন সন্তানের জন্য দোয়া করতেন, সেই পিতা আর এই পৃথিবীতে নেই । মহান আল্লাহর ডাকে সেই গর্বিত পিতা পৃথিবী ত্যাগ করেছেন ১৯৮৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী ।  
৬ ফেব্রুয়ারী শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী । সেদিন প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে র‍্যালি বের হবে রাজধানী ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউটে  শিবির এক সেমিনার আয়োজন করেছিলো । আল্লামা সাঈদী সেই অনুষ্ঠানের ছিলেন প্রধান অতিথি । শহীদ বাগের বাসা থেকে বায়তুল মোকাররম রওনা দিবেন এমন সময় পিরোজপুর থেকে ফোনের মাধ্যমে পৌঁছেছিলো সেই ভয়াবহ শোকের সংবাদ - তার প্রিয় শ্রদ্ধেয় জনক আর নেই ।
কিন্তু মহান আল্লাহর ফয়সালা ছিলো ভিন্ন । স্নেহদাতা পিতার ইন্তেকালের মুহূর্তে  তিনি তার পাশে থাকতে পারেন নি । তার শ্রদ্ধেয় পিতার ইন্তেকাল পূর্ব অবস্থার কথা তার মমতাময়ী মা এভাবে বর্ণনা করেছেন, 'আমার সন্তানের পিতা প্রবল জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন । শেষ মুহূর্তে তিনি খুবই অস্থিরতা প্রকাশ করছিলেন, এবং কখনো কখনো তিনি জ্ঞানহারা হয়ে যেতেন । জ্ঞান ফিরে আসিতেই আদরের সন্তান দেলাওয়ার এসেছে কিনা জানতে চাইতেন । আমি তার জীবন সাথী হিসেবে আসার পর থেকেই দেখেছি, তিনি মহান আল্লাহ তায়ালাকে অত্যন্ত ভয় করতেন এবং তাহাজ্জুদের নামাজ কাজা করতেন না । ইন্তেকালের পূর্বে মুমিনের মৃত্যুর সকল চিহ্ন তার চেহারায় ফুটে উঠলো । আমি লক্ষ করলাম, দেলাওয়ার বাইরে থেকে বাড়িতে এলে ওকে দেখে তার মুখে যেমন স্নিগ্ধ হাসি ফূটতো, ইন্তেকাল পূর্ব মুহূর্তে  ঠিক সেই হাসিই ফুটে উঠলো এবং তিনি এমনভাবে তাকালেন যে, মনে হচ্ছে যেন তিনি প্রিয় দেলাওয়ারকে দেখছেন । এরপর তিনি শুন্যে হাত বাড়িয়ে দিলেন । মনে হলো যেন তিনি দেলাওয়ারের হাত যেভাবে ধরতেন, ঠিক সেভাবেই কিছু একটা ধরলেন এবং বুকের উপর রাখলেন । আমি তাকিয়ে রয়েছি তার স্নিগ্ধ মুখের দিকে । তিনি হাসছেন । এ অবস্থাতেই তিনি চোখ বন্ধ করলেন । আমি দেখলাম, তার কপাল ঘেমে গেলো । তারপরই অনুভব করলাম, দেলাওয়ারের আব্বা আর নেই ' । আল্লামা সাঈদী বলেন, 'সংবাদ পেয়ে আমি যখন পিরোজপুর বাড়িতে পৌঁছে আব্বাকে দেখলাম, তখন আমার মনে হলো, আমি যেন জীবিত ঘুমন্ত আব্বাকে দেখছি । মুখে ফূটে রয়েছে মধুর হাসি । আব্বার শরীরে হাত দিয়ে দেখলাম, তখনও তার শরীর উষ্ণ এবং কবরে নামানোর সময়েও তার শরীর হালকা হালকা উষ্ণই ছিলো ।
পৃথিবীতে যতদিন এই কামেল পুরুষ অবস্থান করেছিলেন, ততোদিন তিনি হৃদয়-মন উজাড় করে তার খেদমত করেছেন । কর্মব্যাপদেশে বাড়ীতে অবস্থান করা আল্লামা সাঈদীর তেমন সম্ভব হয়নি । যতক্ষন বাড়িতে থেকেছেন ততোক্ষনই তিনি মাতা পিতার সান্নিধ্যে থেকে তাদের সেবা যত্ন করেছেন । বিদেশ থেকে বা দেশেরই অন্যস্থান থেকে বাড়িতে এসেই মাতার কুশলাদি জেনেছেন । তার আব্বা ডাকের সাড়া দেয়া সেই  স্নেহদাতা পিতা আর রইলো না । গোটা পৃথিবীব্যাপী তিনি আব্বা আব্বা বলে আর্তচিৎকার  করলেও তার করুন আর্তনাদে সাড়া দেয়ার মতো আর কেউ রইলো না । মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মাওলানা ইউসুফ সাঈদীকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন । আমীন ইয়া রাব্বুল আলামীন ।