শনিবার, ২৩ মে, ২০১৫

হজ্জ এবং উমরা, মিল ও অমিলঃ

হজ্জ আদায়ের জন্য প্রয়োজন হজ্জের মাস, হজ্জের মাস ব্যতিত হজ্জ হবে না । হজ্জ আদায়ের জন্য মিনা,  আরাফাত ও মুযদালিফায় যেতে হয় এবং কংকর নিক্ষেপ করতে হয় । আরাফাতের ময়দানে নিরদিস্ট সময় অবস্থান করে এবং যুহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করতে হয় । মুজদালিফায় এসে মাগরিব এশা নামাজ একত্রে আদায় করে রাত্রি অতিবাহিত করতে হয় । ফজরের নামাজ আদায় করে কংকর  নিক্ষেপের জন্য যেতে হয় । এরপর পশু কুরবানী করতে হয় । মিনার তাবুতে অবস্থান করতে হয় ।
কিন্তু উমরা আদায়ের জন্য মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় যাওয়ার প্রয়োজন হয় না  বা কুরবানী দেয়া লাগে না । তবে হজ্জ বা উমরা উভয় ক্ষেত্রেই ইহরাম বাধতে হয়, পবিত্র কা'বাঘর তাওয়াফ করতে হয় এবং সাফা  মারওয়াতে সাঈ করতে হয় । মাথার চুল কাটাতে হয় । তারমানে উমরা আদায়ে শুধু মাত্র মক্কার মধ্যেই সীমাবব্ধ থাকে । মক্কার বাইরে যাবার প্রয়োজন হয় না । মক্কায় অবস্থানরত কোনো মানুস যদি উমরা আদায় করতে চায়, তাহলে তাকে মসজিদে আয়েশায় এসে ইহরাম বেধে পবিত্র কা'বাঘরে যেতে হয় । ইয়মরা আদায়ে অল্প সময়ের প্রয়োজন হয় । 
পবিত্র বায়তুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা -মারওয়া সাঈ ও চুল কাটাতে যেটুকুন সময় ব্যায় হয় ততোটুকুন ই উমরা করতে লাগে ।  আর হজ্জ আদায়ে নিরদিস্ট কয়েকটি দিনের প্রয়োজন । যিলহজ্জ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ ছাড়া  বছরের যে কোনো সময়ই উমরা পালন করা যায় ।

হজ্জের ফরজ কাজ তিনটি । যথা (এক) নিয়ত করা, ইহরাম বাধা এবং তালবিয়া পাঠ করা । এই তিনটি কাজ একতেরি করা হয় । (দুই) জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ যোহর থেকে মাগ্রিব প্রযন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা । (তিন) তাওয়াফে যিয়ারত করা,জিলহজ্জ মাসের ১০/১১ তারিখ কা'বাঘর তাওয়াফ করা । আর উমরার ফরজ দুইটি । (ক) ইহরাম বাধা (খ) কা'বা তাওয়াফ করা । হজ্জের ওয়াজিব ছয়টিঃ (১) আরাফাত থেকে ফেরার পথে মুজদালিফায় রাত্রি যাপন/ অবস্থান করা এবং সেখানে মাগরিব ও এশা নামাজ একত্রে আদায় করা । (২) সাফা -মারওয়া সাঈ করা । (৩) জিলহজ্জ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করা । (৪) হজ্জে ক্বিরান ও তামাত্তু পালনকারীর জন্য কুরবানী করা । (৫) মাথা মুন্ডন করা বা চুল ছাটা, মহিলাদের চুলের অগ্রভাগ কাটা । (৬) মক্কার বাইরের লোকজনের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করা । উমরার ওয়াজিব দুইটিঃ (এক) সাফা- মারওয়া সাঈ করা ।  (দুই) মাথা মুন্ডন করা বা চুল ছাটা, মহিলাদের চুলের অগ্রভাগ কাটা । ---(চলবে)

"শারঈ' মানদন্ডে
দোয়া-যিকির,হজ্জ ও উমরা"
Shameem Sayedee - শামীম সাঈদী

বুধবার, ২০ মে, ২০১৫

হজ্জে ইফরাদ, তামাত্তু ও হজ্জে ক্বেরান, কোন প্রকার হজ্জ উত্তমঃ ?

হজ্জ তিন ধরনের, হজ্জে ইফরাদ, হজ্জে তামাত্তু, হজ্জে ক্বেরান । শুধু মাত্র হজ্জ পালন করার উদ্দেশ্যে ইহরাম বেধে তালবিয়া পাঠ করাকে ইফরাদ হজ্জ বলে । ইফরাদ হজ্জকারী হজ্জ শেস করে উমরা আদায় করতে পারবেন । 
হজ্জের মাস সমুহে উমরা পালন করে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে দেশে না ফিরে সে বছরই আবার হজ্জের ইহরাম বেধে হজ্জ করাকে তামাত্তু হজ্জ বলে । এধরনের হজ্জকে তামাত্তু হজ্জ বলার কারন হলো, তামাত্তু হজ্জকারী উমরা থেকে মুক্ত হয়ে উমরার ইহরামের কারনে নিসিদ্ধ জিনিস ভোগ করতে পারে । কারন তামাত্তু শব্দের অরথ হলো উপভোগ করা । উপক্রিত হওয়া বা ফায়দা অরজন করা ।

একই সাথে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাধাকে ক্বেরান হজ্জ বলে । ক্বেরান হজ্জ আদায়কারীকে শেস দিন পরযন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকতে হয় । উমরা ও হজ্জ একটির সাথে আরেকটা জড়িত থাকে বিধায় একে ক্বেরান হজ্জ বলা হয় । কারন ক্বেরান শব্দের অরথ হলো মিলিত করা, যুক্ত করা, একত্রিত করা ।
এই তিন ধরনের হজ্জের মধ্যে কোন ধরনের হজ্জ উত্তম এ বিসয়ে ইসলামী চিন্তানায়কদের মধ্যে মত পারথক্য রয়েছে । হযরত আবু হানিফা (রহঃ) ও অন্যান্যদের মতে ইফরাদ ও তামাত্তুর চেয়ে ক্বেরান উত্তম । আর ইফরাদের তুলনায় তামাত্তু উত্তম । কারন নবী করীম সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে ক্বেরানই করেছেন । হযরত ইমাম মালেক (রহঃ) ও অন্যান্যদের মতে ইফরাদ হজ্জ উত্তম । হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ও ইমাম শাফেঈ (রহঃ) এর মতে তামাত্তু উত্তম । একটি বিসয় স্বরনে রাখতে হবে যে, হজ্জে ক্বেরান ও তামাত্তু শুধু মাত্র বহিরাগতদের  জন্য । মক্কার অধিবাসীদের জন্য ক্বেরান বা তামাত্তু নেই ।-------------(চলবে)
"শারঈ' মানদন্ডে
দোয়া-যিকির,হজ্জ ও উমরা"
Shameem Sayedee - শামীম সাঈদী

সোমবার, ১৮ মে, ২০১৫

হজ্জ ও উমরার ফজিলতঃ


ইসলামের পাচটি বুনিয়াদের মধ্যে হজ্জ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন যার সাথে জড়িত রয়েছেন আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ), মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও সাইয়্যেদুল মুরসালীন বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ  সকল নবী ও রাসুল । পৃথিবীতে প্রেরিত অগনিত নবী রাসুল ও মহান আল্লাহর বন্ধুদের চোখের পানিতে সিক্ত হয়েছে হজ্জ আদায়ের স্থান সমূহ । এসব স্থানের সম্মান, মর্যাদা ও ফজিলত বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না । পবিত্র কুরআন ও হাদীসে হজ্জের অসংখ্য ফজিলতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে । হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে হজ্জ আদায় করবে এবং হজ্জ আদায়ের সময় স্ত্রী মিলন ও এ সম্পর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবে এবং কোন ধরনের গুনাহের কাজে লিপ্ত হবে না, সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতোই সে নিস্পাপ অবস্থায় ঘরে ফিরবে । (বোখারী, মুসলিম)

বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মক্কায় গিয়ে হজ্জ আদায় করো, পানি যেমন ময়লা পরিস্কার করে তেমনি হজ্জও গুনাহ পরিস্কার করে । (বোখারী)
হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন দ্বারা হজ্জ আদায় করে পরিপূর্ণ মুমীনের ন্যায় জীবন যাপন করবে তার জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়ে তাকে জান্নাত দেয়া হবে । হাজীগন মহান আল্লাহর মেহমান এবং হজ্জ উত্তম আমলসমুহের মধ্যে একটি । হজ্জ হচ্ছে বৃদ্ধ, দুর্বল ও মহিলাদের জন্য জিহাদ আর হজ্জের বিনিময় হলো জান্নাত । মহান আল্লাহ তায়ালা হাজীর সুপারিশ কবুল করবেন এবং হজ্জের সফরে যারা মৃত্যুবরন করবে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাকে  বিনা হিসাবে জান্নাত দান করবেন । হজ্জের জন্য যে অর্থ ব্যায় করা হবে মহান আল্লাহ তার সওয়াব সাতশত গুন বেশী দান করবেন ।
উমরা আদায়ের অগনিত ফজিলত রয়েছে । নবী করীম মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা হজ্জ ও উমরা একই সাথে সম্পন্ন করো, কারন এগুলো দারিদ্র ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে, যেভাবে কামারের হাপর লৌহ, স্বর্ণ ও রৌপ্যের ময়লা দূর করে দেয় । (তিরমিযী)
রাসুলে আকরাম সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হজ্জ ও উমরা আদায়কারী আল্লাহর মেহমান । তারা যদি আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করে তিনি কবুল করেন এবং যদি তারা ক্ষমা চায় তাহলে তাদের ক্ষমা করা হয় । (ইবনে মাজাহ)
সাইয়্যেদুল মুরসালীন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমজান মাসের উমরা, হজ্জের সমান । (বোখারী, মুসলিম)
আরেক হাদীসে বলা হয়েছে, রমজান মাসের উমরা সেই হজ্জের সমান যা নবী করীম
সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আদায় করা হয়েছে । তবে এর মানে এই নয় যে, যাদের ওপরে হজ্জ আদায় ফরজ হয়েছে, তারা শুধু উমরা করবেন । হজ্জ ফরজ হলে অবশ্যই তাকে হজ্জ আদায় করতে হবে ।-------------(চলবে)
"শারঈ' মানদন্ডে
দোয়া-যিকির,হজ্জ ও উমরা"
Shameem Sayedee - শামীম সাঈদী

শনিবার, ১৬ মে, ২০১৫

হজ্জ আত্মিক উন্নতির মাধ্যমঃ


যিনি হজ্জ আদায়ের জন্য ইহরাম বাধলেন তখন থেকেই সেই মানুষটি ইসলামের প্রত্যেকটি নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করতে হয়, এর ব্যতিক্রম করা যায় না । করলে হজ্জ বাতিল হয়ে যায় অথবা হজ্জ ত্রুটি পূর্ণ হয় । এজন্যে প্রত্যেক হাজী সাহেবই হজ্জ আদায়কালে মহান আল্লাহ তার রাসুলের (সাঃ) নির্দেশ সমুহ পালনে যত্নবান থাকেন । যেমন দাড়ি চুল আচড়ানো যাবে না, দেহের কোথাও চুলকালেও এমন সতর্কভাবে চুলকাতে হয় যে, যেনো দেহের কোন পশম ছিড়ে না যায় । সকল ব্যাপারে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যকে অগ্রাধিকার দিতে হয় । হিংসা বিদ্বেষ পরিহার করে এবং ভাষা ও বর্ণের পার্থক্য ভুলে সকল হাজী সাহেব একে অপরের আপনজনে পরিনত হয় । এ অবস্থায় কোনো প্রানীকে হত্যা করা যায় না । নিজের জৈবিক চাহিদাকেও দমন করে রাখতে হয় । মুখে কোন কটু বাক্য উচ্চারন করা যায় না । মিথ্যা পরিহার বর্জন করতে হয় । অন্যের স্বার্থে আঘাত দেয়া যায় না । অন্যের প্রয়োজন পুরনে এগিয়ে যেতে হয় ।

সেই সাথে সময়ের প্রত্যেক মুহূর্তে মহান আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ রাখতে হয় । কেঊ নফল নামায আদায় করতে থাকে, কেউ পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকে কেউবা তাসবিহ তাহলিল পাঠে মশগুল থাকে । অর্থাৎ সময়ের প্রত্যেক মুহূর্ত মহান আল্লাহর যিকর বা তার স্মরনে অতিবাহিত করতে হয় । এভাবে একজন মানুষের অভ্যন্তর থেকে সকল প্রকার খারাপ দিক মুছে গিয়ে সে স্থলে তাক্ব্বয়াদারী ও পরহেজগারী সৃষ্টি হয় । আর এভাবেই মানুষ নিজ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে নিজেকে মহান মালিক আল্লাহর নৈকট্যের দিকে অগ্রসর করিয়ে থাকে । এ জন্যই হাদীসে ব্লা হয়েছে, 'মানুষ মাতৃগর্ভ থেকে যেভাবে নিস্পাপ অবস্থায় পৃথিবীতে আগমন করে, ঠিক তেমনি যে ব্যাক্তি হজ্জ আদায়ে সকল শর্ত যত্নের সাথে পালন করেছে, সে ব্যক্তি নিস্পাপ হয়ে যায়' । অর্থাৎ তার কোন গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না । হজ্জ এভাবেই মানুষের আত্মিক ও চারিত্রিক উন্নতি ঘটিয়ে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ উম্মুক্ত করে দেয় ।
"শারঈ' মানদন্ডে
দোয়া-যিকির,হজ্জ ও উমরা"
Shameem Sayedee - শামীম সাঈদী
(চলবে)

মি'রাজের শিক্ষা

রাসূল (সা:) মেরাজ থেকে ফিরে আসার পর সূরা বনি ইসরাইলের মাধ্যমে ১৪টি দফা জনগণের সামনে পেশ করেনঃ
১. আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে । আর তোমরা কেবল আল্লাহরই বন্দেগি করো (সূরা বনি ইসরাইল-২২)।
২. বাবা-মার সাথে ভালো ব্যবহার করো । তাদের একজন বা উভয়ে বৃদ্ধ অবস্থায় যদি তোমাদের সামনে উপনীত হয় তাহলে তাদের সাথে উহ্ শব্দটি পর্যন্ত কোরো না । তাদের ধমকের সুরে জবাব দিয়ো না; বরং তাদের সাথে মর্যাদা সহকারে কথা বলো । আর তাদের সামনে বিনয়ী থেকো আর দোয়া করতে থাকো- ‘হে আমার প্রতিপালক, তাদেরকে তেমনিভাবে লালন-পালন করো, যেমনি তারা শৈশবে আমাদের লালন-পালন করেছেন’ (সূরা বনি ইসরাইল ২৩-২৪) ।
৩. তোমাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন । নিশ্চই আল্লাহ তোমাদের মনের খবর জানেন (সূরা বনি ইসরাইল-২৫)।
৪. আত্মীয়স্বজনকে তাদের অধিকার দাও আর মুসাফিরদের হক আদায় কর । (সূরা বনি ইসরাইল-২৬)।
৫. অপব্যয় করো না, নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই, আর শয়তান স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞ (সূরা বনি ইসরাইল-২৭)।
৬. হকদারদের হক আদায়ে তুমি যদি অপারগ (অসমর্থ) হও তাহলে তাদের সাথে অত্যন্ত নম্রভাবে কথা বলো (সূরা বনি ইসরাইল-২৮)।
৭. ব্যয়ের ক্ষেত্রে বেহিসেবি হয়ো না, আবার কৃপণতাও প্রদর্শন করো না । আল্লাহ যাকে চান রিযিক বাড়িয়ে দেন, যাকে চান কমিয়ে দেন (সূরা বনি ইসরাইল : ২৯-৩০)।
৮. দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তান হত্যা কোরো না । নিশ্চয়ই এটি মহাপাপ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩১)।
৯. যেনা-ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চই এটি নিকৃষ্ট ও গর্হিত কাজ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩২)।
১০. কোনো জীবনকে অন্যায়ভাবে হত্যা কোরো না । কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে তার উত্তরাধিকারীকে আমি এই অধিকার দিয়েছি (চাইলে রক্তের বিনিময় চাইতে পারে), তবে প্রতিশোধের ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৩)।
১১. এতিমের সম্পদের ধারে কাছেও যেও না । সম্পদের ব্যাপারে তার বয়োঃপ্রাপ্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করো আর প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সচেতন থাকো । নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৪)।
১২. ওজনে কখনো কম দিয়ো না । দাঁড়িপাল্লা সোজা করে ধরবে- এটিই উত্তম পন্থা (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৫)।
১৩. যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সেগুলোর পেছনে লেগো না । নিশ্চয়ই চোখ, কান, অন্তর সব কিছুই জিজ্ঞাসিত হবে (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৬)।
১৪. জমিনে দম্ভ সহকারে চলো না । এগুলো সবই মন্দ ও ঘৃণিত কাজ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৭-৩৮)।
এই ১৪ দফাই শবেমেরাজের প্রকৃত শিক্ষা । মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমল করার তাওফীক দান করুন ।


শুক্রবার, ১৫ মে, ২০১৫

আব্বার সাথে সাক্ষাত করে আসি অথচ আপনাদের দাবী থাকা স্বত্তেও

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০১৫


আব্বার সাথে সাক্ষাত করে আসি অথচ  আপনাদের দাবী থাকা স্বত্তেও লেখি না । আসলে ব্যক্তিগত কষ্টের কথা লিখতে ভালো লাগে না । আজ অনেকদিন পর লিখতে মন চাইছে কারন দীর্ঘদিন পর, আব্বাকে  বেশ সুস্থ দেখেছি । অনেক দিন হাটু এবং কোমড়ের ব্যাথায় ভুগছিলেন । ডায়াবেটিক্স ও হার্টের অবস্থা এখন অনেকটা ভালো আছে বললেন । অবশ্য কাশিমপুর কারাগারের ডাক্তার তাকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে কিন্তু কোন অবস্থাতেই আব্বা পিজিতে যাবেন না । পিজি হাসপাতালে বন্ধীদের চিকিৎসার নামে অহেতুকই হয়রানি করা হয় ।  


আব্বা আপনাদের সকলকে সালাম জানিয়ে দোয়া চেয়েছেন । কোরআনের ময়দান আল্লাহ যেন তাকে ফিরিয়ে দেন । তিনি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করেন রক্তের সিড়ি বেয়েই একদিন কালেমার পতাকা এদেশের জমিনে পতপত করে উড়বে ইনশাআল্লাহ । আরেকটিবার তোমার হাবিবের রওজা না দেখিয়ে তোমার পবিত্র ঘর না দেখিয়ে মৃত্যু দিও না । আমিন ।
দুঃসহ এই গরম আর অসহনীয় ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে প্রায় ২ ঘন্টা গাড়িতে চড়ে দেখা পেলাম মাত্র ৩০ মিনিটের । ২ সপ্তাহ পর পর দেখা করার অনুমতি । অপেক্ষার এই ১৫ দিন শেষ হয় না, মনে হয় ৩০ দিন লাগে আর ৩০ মিনিটের সাক্ষাত শেষ হয়ে যায় চোখের পলকে । কেমন আছেন, ভালো আছি বলতে বলতেই কারারক্ষি এসে বলে সময় শেষ । অতৃপ্ত মন নিয়ে ফিরে আসতে হয়, ফিরে আসি- আবার ১৫ দিন পর দেখা হবে সেই অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকি..............................


আব্বার সাথে সাক্ষাত করে আসি অথচ  আপনাদের দাবী থাকা স্বত্তেও লেখি না । আসলে ব্যক্তিগত কষ্টের কথা লিখতে ভালো লাগে না । আজ অনেকদিন পর লিখতে মন চাইছে কারন দীর্ঘদিন পর, আব্বাকে  বেশ সুস্থ দেখেছি । অনেক দিন হাটু এবং কোমড়ের ব্যাথায় ভুগছিলেন । ডায়াবেটিক্স ও হার্টের অবস্থা এখন অনেকটা ভালো আছে বললেন । অবশ্য কাশিমপুর কারাগারের ডাক্তার তাকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে কিন্তু কোন অবস্থাতেই আব্বা পিজিতে যাবেন না । পিজি হাসপাতালে বন্ধীদের চিকিৎসার নামে অহেতুকই হয়রানি করা হয় ।  


আব্বা আপনাদের সকলকে সালাম জানিয়ে দোয়া চেয়েছেন । কোরআনের ময়দান আল্লাহ যেন তাকে ফিরিয়ে দেন । তিনি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করেন রক্তের সিড়ি বেয়েই একদিন কালেমার পতাকা এদেশের জমিনে পতপত করে উড়বে ইনশাআল্লাহ । আরেকটিবার তোমার হাবিবের রওজা না দেখিয়ে তোমার পবিত্র ঘর না দেখিয়ে মৃত্যু দিও না । আমিন ।
দুঃসহ এই গরম আর অসহনীয় ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে প্রায় ২ ঘন্টা গাড়িতে চড়ে দেখা পেলাম মাত্র ৩০ মিনিটের । ২ সপ্তাহ পর পর দেখা করার অনুমতি । অপেক্ষার এই ১৫ দিন শেষ হয় না, মনে হয় ৩০ দিন লাগে আর ৩০ মিনিটের সাক্ষাত শেষ হয়ে যায় চোখের পলকে । কেমন আছেন, ভালো আছি বলতে বলতেই কারারক্ষি এসে বলে সময় শেষ । অতৃপ্ত মন নিয়ে ফিরে আসতে হয়, ফিরে আসি- আবার ১৫ দিন পর দেখা হবে সেই অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকি..............................