রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১৬

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলামঃ মাওলানা সাঈদী (পর্ব - ৬)

শক্তি প্রয়োগে আদর্শ প্রতিষ্ঠা

ইতিহাসে দেখা যায়, রাষ্ট্র বা দলীয় শক্তি প্রয়োগ করে কোনো কোনো আদর্শ দেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে । শাস্তির ভয়ে প্রকাশ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে মানুষ সে আদর্শের অনুসরণ করেছে আর আড়ালে প্রকাশ করেছে অন্ত্রের ঘৃণা । অনেক রাজা বদশাহই এ ধরনের হঠকারিতামূলক কাজ করেচ্ছেন । তারা যে বোধ-বিশ্বাস অন্তরে লালন করতেন, তাই জোরপূর্বক জাতির উপর আইন প্রয়োগ করে চাপিয়ে দিতেন । বিংশ শতাব্দীর ঊষালগ্নেও আমরা দেখতে পেয়েছি, ইয়াহুদী সন্তান কার্লমার্কস সৃষ্ট সমাজতন্ত্র নামক আদর্শও রাস্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়ার নির্মম-নিষ্ঠুর কার্যক্রম । 
কিন্তু যারা এই অবাস্তব পদ্ধতি প্রয়োগ করে আদর্শ টিকিয়ে রাখার প্রচেস্টা চালিয়েছে, তারা এ কথা ভুলে গিয়েছে যে, বিশ্বাস হলো মানুষের মনের সাথে সম্পৃক্ত । শক্তি প্রয়োগে কোনো বিশ্বাসের প্রতি মানুষের মৌখিক স্বীকৃতি আদায় করা যায় বা কিছু সময়ের জন্য পালন করানোও যায় কিন্তু হৃদয়-মনে তা প্রতিষ্ঠিত করা যায় না । মানুষ তো পরম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও নিষ্ঠার সাথে সেই আদর্শই অনুসরণ করে, যারা তা মনপ্রান দিয়ে বিশ্বাস করে । যে আদর্শের শিকড় হৃদয়- গভীরে প্রোথিত, তাই মানুষের বাহ্যিক অবয়বে শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে ।
সম্রাট অশোক, সম্রাট আকবর, হালাকু খান, চেঙ্গিশ খান শক্তি প্রয়োগ করে কতো নিয়ম-নীতি চালু করেছিলেন, এসবের কোন অস্তিত্বও নেই । নিকট অতীতে সমাজতান্ত্রিক দেশসমুহে সমাজতন্ত্রের প্রবক্তাদের প্রচলিত নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা তো দূরে থাক, তাদের বিশাল বিশাল মূর্তি গুলোর গলায় শিকল লাগিয়ে টেনে নামানো হয়েছে । শক্তি প্রয়োগ করে, লোভ লালসা দেখিয়ে, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা করে যে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা হয়, সে আদর্শ অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং এর স্থায়িত্ব নেই- ক্ষণস্থায়ী । সামান্য কিছু কালের ব্যবধানে এর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ে ।
পৃথিবীতে একমাত্র ইসলামই হলো ব্যতিক্রম সেই আদর্শ, যা লোভ-লালসা দেখিয়ে, প্রতারনা-প্রবঞ্চনা করে অথবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রচার-প্রসার করা হয়নি । ইসলামী আদর্শের বাহ্যিক ও অভ্যান্তরিন অনুপম গুন-বৈশিস্ট্য, নবী- রাসুলদের আকর্ষণীয় চারিত্রিক গুন এবং সাহবায়ে কেরামের আচরিত তুলনাহীন গুনাবলীর প্রতি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রেনীর মানুষ আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম কবুল করেছে । আর এভাবেই ইসলামের প্রচার -প্রসার ঘটেছে । সুতরাং সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, বোমাবাজি করে, মানুষ হত্যা করে জঙ্গি পন্থায় যারা আল্লহর আইন চালু করার চিন্তা করে, তাদের বোঝা উচিত এপথ ইসলামের নয় এবং এপথ অবলম্বন করে মানুষের মনে আল্লাহর আইনের প্রতি সম্মানবোধ, শ্রদ্ধা-ভালোবাসা সৃষ্টি করা যাবে না ।
ইসলামের চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ঢাল চুরির ঘটনা ইতিহাসের পাঠক মাত্রই অবগত রয়েছেন । তার ঢাল চুরি করলো এক ইয়াহুদী, তিনি রাস্ট্রপ্রধানের পদে আসীন । রাস্ট্রশক্তি প্রয়োগ করে ইয়াহুদীকে চরম শাস্তি দিয়েই তো ঢালটি উদ্ধার করতে পারতেন কিন্তু ইসলামী শিক্ষা তাকে সে পথে অগ্রসর হতে না দিয়ে আদালতে বিচারকের কাছে পাঠিয়েছে । আদলতে সাক্ষী গ্রহনযোগ্য না হবার কারনে ইয়হুদীর পক্ষে আর ইসলামী রাস্ট্রপ্রধানের বিপক্ষে রায় দিয়েছে । রাস্ট্রপ্রধান আদালতের রায় মেনে নিয়ে বাড়ির দিকে ফিরছেন । পথিমধ্যে সেই ইয়াহুদী ছুটে এসে হযরত আলীকে জড়িয়ে ধরে ব্যাকুল কন্ঠে বলছে, যাদের আদর্শ এতো সুন্দর মানুষ সৃষ্টি করেছে, আমি সেই আদর্শ গ্রহন করে মুসলমান হলাম । এই নিন আপনার ঢাল, এটি আমিই চুরি করেছিলাম ।  
ইসলাম এভাবেই প্রসারিত হয়েছে, শক্তি প্রয়োগে নয় ।  ***** চলবে *****

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলামঃ মাওলানা সাঈদী (পর্ব - ৫)

আল্লাহর আইন- বৃটিশ ও পাকিস্তান যুগঃ

বৃটিশ এদেশকে প্রায় দুইশত বছরব্যাপী শাসন করেছে । এরপর ২৪ বছর বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পরিচিত ছিলো । তখন তো কেউ-ই  'আল্লাহর আইন চালু'র নামে এদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপর্যয় সৃষ্টি করেনি । ১৯৭১ সালে মহান  মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ স্থান করে নিলো, একের পর এক সরকার পরিবর্তন হলো, দীর্ঘ এ সময়েও কেউ উক্ত দাবি তুলে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাস সৃষ্টি করেনি ।
১৯৯৬ সালের পরে এদেশের শাসন ক্ষমতায় যারা এলেন, তাদের শাসনামলে ১৯৯৯ সালের ৬ই মার্চ যশোরে উদীচীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালিয়ে ১০ জনকে হত্যা করা হলো । একই সালের ৮ই অক্টোবর খুলনায় কাদিয়ানীদের উপাসনালয়ে বোমা নিক্ষেপ করে ৮ জনকে হত্যা করা হলো এবং ফরিদপুর জেলার এক মাজারে বোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করা হলো ৪ জনকে । ২০০১ সালের ২০শে জানুয়ারী ঢাকার পল্টন মাঠে কমিউনিস্ট পার্টির সমাবেশে বোমা হামলা করে হত্যা করা হলো ৭ জনকে এবং  একই সময়ে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বোমা বিস্ফোরন ঘটানো হলো । ২০০১ সালের ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ঢাকার রমনা বটমুলে নববর্ষের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা করে ১০ জনকে হত্যা করা হলো । ২০০১ সালের জুন মাসের ৩ তারিখে গোপালগঞ্জের বানিয়ারচরের একটি গির্জায় বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে ১০ জনকে হত্যা করেছে । একই বছরের ঘটনা অর্থাৎ কয়েকদিন পর ১৫ই জুন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে বোমা বিস্ফোরন করে হত্যা করা হয় ২২ জনকে । ২৩শে সেপ্টেম্বর বাঘেরহাটের মোল্লারহাটে বোমা বিস্ফোরন করে হত্যা করলো ৮ জনকে । ২৬শে সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে আওয়ামীলীগ সমাবেশে বোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করলো ৪ জনকে ।
অর্থাৎ ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বোমা নিক্ষেপ করে অনেক মানুষ হত্যা করা হয়েছিলো, চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছে কয়েক শত মানুষকে এবং কয়েক কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করা হয়েছিলো । এসব বোমাবাজি যেখানে যেখানে ঘটলো বা ঘটানো হলো, সেখানের কোথাও 'আল্লাহর আইন চালু'র দাবি তুলে বোমা নিক্ষেপ হয়েছে বলে শোনা যায়নি এবং 'আল্লাহর আইন চালু'র পক্ষে কোন সংগঠনের লিফলেটও পাওয়া যায়নি । এ সময়ে বাংলাদেশের কোন একটি আদালতের  বিচারককেও হুমকি দিয়ে কেউ-ই কোনো চিঠি দিলো না, আদালতেও কেউ বোমা নিক্ষেপ করলো না এবং আত্মঘাতিকোনো লোকেরও সন্ধান পাওয়া গেলো না ।
বাংলাদেশকে 'অকার্যকর ও ব্যর্থরাষ্ট্র' হিসেবেও কোন মহল থেকে চিহ্নিত করার চেষ্টা পরিলক্ষিত হলো না ।
২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের নির্বাচনে ইসলামী মুল্যবোধে বিশ্বাসী চার দলীয় ঐক্যজোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শাসন ক্ষমতায় আসীন হলো । ইতিপূর্বে যখন কুকুরের মাথায় টুপি পরিয়ে ইসলামপন্থীদের অমর্যাদা করা হয়েছে, খুনের অভিযোগে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীন আলেমকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়েছে, মসজিদ মাদরাসা বন্ধ করা হয়েছে, অগণিত আলেম উলামাকে গ্রেফতার করে জেলখানা পরিপূর্ণ করা হয়েছে । সেখানে ১লা অক্টোবরের নির্বাচনের পরে আলেম-উলামাগন সম্মান মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছেন । প্রচার মাধ্যমে তারা বক্তব্য রাখার ও সরকারী অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েছেন । প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী ও এমপিগন আলেমদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সৃষ্টি করেছেন, মাদরাসা শিক্ষার প্রতি সরকার গুরুত্ব দিয়েছিলো ও সন্ত্রাস নির্মূলের লক্ষে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছিলো ফলে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছিলো । এই যখন দেশের বাস্তব অবস্থা, ঠিক তখনই চার দলীয় জোট সরকারের শেষ বছরে হঠাৎ করে নানা ধরনের ভুঁইফোড় সংগঠনের নাম দিয়ে 'আল্লাহর আইন চালু'র নামে আত্মঘাতি বোমাবাজদের মাধ্যমে দেশে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করা  এবং সরকারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিলো ।

ইসলামের নাম শুনলেই যাদের গাত্রদাহ শুরু হয় এবং আলেম দেখলেই যাদের নাকে কয়েকটি ভাজ দেখা যয়, কুকুরের মাথায় টুপি পরিয়ে যারা ইসলামকে ব্যং-বিদ্রুপ করে, মাদরাসাকে যারা মৌলবাদী ও সন্ত্রাসীদের আখড়া বলে চিহ্নিত করে, সংবিধানের শুরু থেকে  "বিসমিল্লাহ" মুছে দিতে চায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রাম থেকে যারা কুরআনের আয়াত মুছে দেয়, নাস্তিক-মুরতাদদের যারা পরম হিতৈষী -বন্ধু এবং আলেমদেরকে শত্রু মনে করে, চারদলীয় জোটকে ক্ষমতায় যাবার প্রধান বাধা মনে করে যারা, জোট ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র-এ ব্যর্থ হয়ে প্রকাশ্যে দাবি তোলে, উদ্ভুত সমস্যা সমাধানের লক্ষে জাতীয় ঐক্য গড়ার লক্ষে যারা আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানায়, 'আল্লাহর আইন চালু'র নামে আত্মঘাতি বোমাবাজ তাদেরই তত্ত্বাবধানে সৃষ্টি ও পরিচালিত হচ্ছে কিনা, এ প্রশ্ন বর্তমানে সর্বস্তরের নাগরিকদের মনে সৃষ্টি হয়েছে ।   ***** চলবে *****

বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০১৬

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলামঃ মাওলানা সাঈদী (পর্ব - ৪)

রোযা ও পুজার দেশে সন্ত্রাসী সৃষ্টির কৌশলঃ 

আল্লাহর আইন চালুর নামে যেসব মুসলমান নামধারী কিশোর, তরুন ও যুবকদের ব্যবহার করা হচ্ছে, পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে এরা প্রায় সকলেই বাম-রাম ঘরনার ধনী পরিবারের কর্মহীন- বেকার, ভবঘুরে, হতাশাগ্রস্ত অর্থলোভী, বুদ্ধি-বিবেচনাহীন সদস্য । এদের কাছে অর্থই মুখ্য বিষয় । ইসলাম-মুসলমান, দেশ-জাতি ও মানবতার দুশমনরা এসব মোটা মাথার লোকদেরই রিক্রুট করে আল্লাহর আইন চালুর নামে সন্ত্রাস সৃষ্টির প্রশিক্ষন দিয়েছে । এসব যুবকে বন্ধু-বান্ধবের সাথে এখানে-সেখানে আড্ডা এবং নারী ও মাদকে আসক্ত করে । এরপর এসব ছেলেকে পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সকল সদস্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে 'আল্লাহর আইন চালুর' নামে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে ।
টিভি-রেডিও, ইন্টারনেট, সোস্যাল মিডিয়া এবং পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে পেশাধারী সম্মোহনকারী আমদানী করে এদেরকে এমনভাবে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে যে, এদের মধ্যে থেকে মানবীয় সুকুমার বৃত্তিসমুহের মৃত্যু ঘটিয়ে হৃদয়কে করা হয়েছে মায়া-মমতাশুন্য । পিতা-মাতা, ভাই-বোন দূরে থাক- নিজ জীবনের প্রতিও এমন বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করা হয়েছে যে, নিজ জীবনকে  নিজের কাছেই এক দুর্বহ বোঝা -এই অনুভুতি এদের মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে । এদেরকে এশিক্ষাও দেয়া হয় যে, জীবন নামক এই দুর্বহ বোঝা থেকে নিজেকে মুক্ত করে বেহেশতে যাবার সবথেকে সহজ পদ্ধতি হলো আল্লাহর আইন চালুর জন্য অন্য মানুষ ও নিজেকে হত্যা করা । কুরান-হাদীসের জ্ঞান বিবর্জিত বুদ্ধি-বিবেচনাহীন জাহিল এসব লোকদেরকে দীর্ঘ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সমাজ, দেশ-জাতির প্রতি বিদ্রোহী করে গোড়ে তোলা হয়েছে । সুস্থ চিন্তার পরিবর্তে  এদের মাথায় প্রবেশ করানো হয়েছে অসুস্থ চিন্তা । অর্থাৎ এরা জীবন সম্পর্কে হতাশা ও অবসাদগ্রস্থ হয়ে জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া লোক । এসব লোকদের প্রতি আমাদের করুনা হয় ।
গোয়েন্দাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এসব যুবকেরা দীর্ঘ দিন যাবৎ পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে, কেউ কেউ বছরে মাত্র দু-একবার পিতামাতা বা পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে কিছু টাকা দিয়েই আবার নিরুদ্দেশ হয়ে যায় । প্রশিক্ষনের মাধ্যমে এদেরকে নিজ পরিবার-পরিজন, সমাজ ও দেশের আনুগত্য না করে একমাত্র নেতার আনুগত্যের মধ্যেই মুক্তি, এই ধারনা সৃষ্টি করা হয়েছে । সম্মোহনের মাধ্যমে মন-মস্তিস্ক, সমাজ সংসারের চেতনাশুন্য করে আল্লাহর আইন চালুর মায়াজালে বন্ধি করা হয়েছে । ফলে এসব লোকের পরিবারের অন্য সদস্যগনও এসব লোকদের প্রতি মায়া-মমতাশুন্য  হয়ে পড়েছে । এর প্রমান হিসেবে গোয়েন্দা সুত্রে সংবাদ মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আত্মঘাতি এসব লোকের মরদেহ তাদের পরিবারের কেউ-ই গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ ও এদের সম্পর্কে কিছু শুনতেও অনিচ্ছা প্রকাশ করছে ।
এভাবে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সংসার, সমাজ ও দেশের প্রতি বিরাগ ভাজন করে এসব যুবকদের মাধ্যমে নিকটতম ও দুরতম ঐসব প্রতিবেশী দেশই শান্তির দেশ- বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অস্থির করে তুলে দুনিয়ার সম্মুখে 'অকার্যকর ও জঙ্গিরাষ্ট্র' হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করে আগ্রাসনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে । ক্ষমতায় টিকে থাকতে জঙ্গি ইস্যু তৈরি করে বহির্বিশ্বের নাক গলানোর সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে । প্রকৃত অপরাধীদের না ধরে একে অপরের দোষারপ করা হচ্ছে । বাংলাদেশ  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জল ভুমি, এখানে মুসলমানদের সাথে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীগন শান্তির সাথে বসবাস ও নির্বিঘ্নে আনন্দ চিত্তে শঙ্কামুক্ত মনে ধর্ম পালন করছে । মুসলমনাদের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র মাস রমজান মাসেও অত্যান্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশে পুজা-পার্বণ অনুষ্ঠিত হয় । এদেশে মসজিদ-মন্দির পাশাপাশি অবস্থান করছে এবং উভয়স্থানে একই সময়ে যার যার ধর্ম সে সে পালন করছে । একই অফিসে পাশাপাশি টেবিলে বসে চাকরী করছে, পরস্পরের বাড়িতে দাওয়াত খাচ্ছে, একে অপরের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে, এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হবার পরও মরণাপন্ন রুগীকে নিজের দেহের রক্ত দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করছে ।

বাংলাদেশের উন্নতি, অগ্রগতি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, উদার গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট, শান্তিপূর্ণ  পরিবেশ যাদের কাছে অসহ্য, ঢাকা ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা ও বঙ্গভঙ্গের ব্যাপারে যারা বিরোধিতা করেছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষেই অস্ত্র ও এদেশের কলকারখানার যন্ত্রপাতি লুট করেছে, যারা ১৯৪৭ সালের ভূগোলিক সীমারেখা মানতে নারাজ এবং বাংলাদেশী নয়-বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, মঙ্গল প্রদীপ বা অগ্নি প্রজ্জলন ও রাখিবন্ধন সংস্কৃতির অনুসারী, বাংলাদেশের প্রতি যারা বন্ধুত্বের প্রশ্নে উত্তীর্ণ নয় এবং সাম্প্রদায়িক দুষ্টক্ষতে আক্রান্ত হবার কারনে দুনিয়াব্যাপী বদনাম অর্জন করেছে, তারাই তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও এদেশীয় তল্পীবাহকদের মাধ্যমে বাংলাদেশে 'আল্লাহর আইন' চালুর নামে আত্মঘাতি লোকদের দ্বারা সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে বিশ্বের কাছে এ দেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থরাষ্ট্র এবং তাদেরকে দালালদেরকে আজীবন ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার অপচেস্টা করছে কিনা, এপ্রশ্ন সচেতন মহলের মনে সৃষ্টি হয়েছে । ***** চলবে *****

মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১৬

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলামঃ মাওলানা সাঈদী

ইসলাম-মুসলমান বনাম সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ

আল্লাহ সুবহানাহু তা'য়ালা তাঁর অনুসরণের ক্ষেত্রে দুই ধরনের পদ্ধতি দিয়েছেন । মানুষ ব্যতীত অন্যান্য সমগ্র সৃষ্টির জন্য তাঁর আইন পালন বাধ্যতামুলক করেছেন । চিন্তাবিদগণ সাধারন দৃষ্টিতে যা বুঝে তা হলো, তিনি যদি অন্যান্য সকল সৃষ্টির জন্য তাঁর আইন অনুসরন বাধ্যতামুলক না করতেন, তাহলে মানুষসহ সমগে সৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হতো, যেমন মহাশুন্যে গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, নিহারীকাপুঞ্জ, ব্লাকহোল ও অন্যান্য যা কিছুই রয়েছে, এসব কিছুর পরিভ্রমনের জন্য গতিপথ বা পরিভ্রমনের পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, এসব পথে ওগুলো চলতে বাধ্য । ওসব সৃষ্টিসমুহের পরিভ্রমনের পথে আল্লাহ তায়ালা যদি স্বধীনতা দিতেন, তাহলে পরিভ্রমনের পথে একটির সাথে আরেকটির সংঘর্ষ ছিলো অবশ্যম্ভাবী এবং সেগুলো স্বয়ং যেমন ধ্বংস হতো তেমনি অন্যান্য সৃষ্টির জন্যও মারাত্মক ক্ষতির কারন হতো ।
অপরদিকে আল্লাহ সুবহানাহু তা'য়ালা তাঁর আইন পালনের ক্ষেত্রে একমাত্র মানুষকেই স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং সতর্ক করে দিয়ে পবিত্র কুরআনে এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে, "আলো-অন্ধকারের পথ বা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সুস্পস্ট পার্থক্য করে দেয়া হয়েছে" । কেউ ইচ্ছা করলে আলোর পথ বা সত্যপথ অনুসরণ করে দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে পারে, এস্বাধীনতা যেমন মানুষের রয়েছে তেমনি সে অন্ধকার পথ অনুসরণ করে পৃথিবী ও আখিরাতে নিজেকে ধ্বংসও করে দিতে পারে, এ স্বাধীনতাও মানুষের রয়েছে । একই সাথে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে মানব মন্ডলীকে এ কথাও জানিয়ে দিয়েছেন যে, "ইসলামই মানুষের জন্য একমাত্র মনোনীত জীবন ব্যবস্থা" ।
সমগ্র সৃষ্টি জগতের মালিক এ কথাও জানিয়ে দিয়েছেন যে, "ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো আদর্শ কেউ যদি অনুসরণ করে, তাহলে সে নিশ্চিতভাবে পৃথিবী ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে" । যে ব্যক্তি নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবি করবে, শান্তি, স্বস্তি ও সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষে তাঁর জন্য আল্লাহর বিধান অনুসরণ করা অবশ্যই বাধ্যতামুলক । আল্লাহর বিধান অনুসরণ না করে কেউ যদি নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবি করে, আল্লাহ তা'য়ালার কাছে তাঁর এই দাবির কানাকড়িও মুল্য নেই । কারন 'মুসলিম ও ইসলাম' এই শব্দ দুটো একটির সাথে আরেকটি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত, পরস্পর সম্পুরক এবং অবিচ্ছিন্ন । এই শব্দ দুটোর মুলেই নিহিত রয়েছে মানুষের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নতি, প্রগতি, স্বস্তি, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদের বিভীষিকামুক্ত শঙ্কাহীন এক উন্নত জীবন যাপনের পরিবেশ ।
'ছিলমুন' শব্দ থেকে 'ইসলাম' শব্দের উৎপত্তি এবং এর অর্থ হলো শান্তি ।  আর মুসলিম শব্দের অর্থ হলো 'আত্মসমর্পণকারী' । আল্লাহ তা'য়ালা মানবমন্ডলীর শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নতি, প্রগতি, স্বস্তি, শঙ্কামুক্ত নিরাপত্তাপূর্ণ  যে বিধানাবলী দান করেছেন, এর সমষ্টির নামই হলো ইসলাম এবং এই বিধানাবলীর নিকট যে মানুষ আত্মসমর্পণ করেছে, সে-ই হলো মুসলমান ।
সহজ কথায় সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদের বিপরীতে শান্তি, সমৃদ্ধি,  প্রগতি, স্বস্তি, উন্নতি ও নিরাপত্তা দানের নিশ্চয়তামুলক বিধানের নিকট যে মানুষ তাঁর সমগ্র সত্তাকে সমর্পণ করেছে, সেই হলো মুসলমান । এ কারনেই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেনঃ 'যে ব্যক্তির হাত ও মুখের কথা থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ নয়, সে ব্যক্তি মুসলমান নয়' ।
যে আল্লাহ তা'য়ালা মানুষের নিরাপত্তার প্রতীক ও শান্তির নিশ্চয়তামুলক জীবন বিধান ইসলামকেই মানুষের জন্য একমাত্র জীবন বিধান হিসেবে মনোনীত করেছেন, সেই আল্লাহ তায়ালার নিরানব্বইটি নামের মধ্যে গুনবাচক নামসমুহের একটি নাম হলো 'সালাম' অর্থাৎ শান্তিদাতা । অপরদিকে রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে 'সালাম' নামের অধিকারী আল্লাহ তা'য়ালা স্বয়ং পবিত্র কুরআনে সুরা আম্বিয়ায় ঘোষণা করেছেনঃ 'হে নবী ! আপনাকে আমি সমগ্র জগতের জন্য করুণার প্রতীক হিসেবেই প্রেরণ করেছি' ।
অর্থাৎ মহান আল্লাহ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে 'করুণার প্রতীক তথা নবীয়ে রহমত' উপাধি দান করেছেন । তাহলে বিষয়টি এভাবেই স্পস্ট হয়ে গেলো যে, 'শান্তিদাতা' সালাম আল্লাহ তা'য়ালা সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদের বিপরীতে শান্তি, স্বস্তি, নিরাপত্তা, সুখ- সমৃদ্ধি, উন্নতি-প্রগতি ও শঙ্কামুক্ত জীবন বিধান শান্তির আদর্শ ইসলামকে করুণার মূর্তপ্রতীক নবীয়ে রহমতের কাছে প্রেরণ করেছেন এবং তিনি এ সর্বোত্তম আদর্শ পৃথিবীতে বাস্তবায়ন করেও দেখিয়েছেন ।
আল্লাহ সুবহানাহু তা'য়ালা, নবী-রাসুলের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদেরকে নামাজ শেষ করার আদেশও দিয়েছেন  শান্তি কামনা করার মাধ্যমে । অর্থাৎ নামাজের শেষ বৈঠকে 'আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ' মুখে উচ্চারন করেই নামাজ শেষ করতে হবে । নামাজ শেষ করেই মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে যে দোয়া করতেন সে দোয়ার অর্থ হলোঃ "হে আল্লাহ ! তুমি শান্তিময় আর তোমার নিকট থেকেই শান্তির আগমন, তুমি কল্যানময়, হে মর্যাদাবান কল্যাণময় ! তোমার কাছেই আমি শান্তির শেষ আশ্রয়স্থল জান্নাত কামনা করছি" । আল্লাহর রাসুলের শিখানো এই দোয়া অধিকাংশ আলেমগন নামাজ শেষ করেই তেলাওয়াত করেন এবং মুসলমানদের মধ্যে যারা এই দোয়া মুখস্ত করেছেন তারাও করে থাকেন ।
এরপর মুসলমানদের পরস্পরের দেখা-সাক্ষাত হলেও শান্তি কামনা করার আদেশ দেয়া হয়েছে অর্থাৎ 'আসসালামু আলাইকুম' 'তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক' প্রথমে বলে তারপর অন্যান্য কুশলাদি জানতে হবে । শিশুর বাক শক্তি নেই, সে জবাব দিতে পারবে না তবুও তাকে সালাম জানাতে হবে অর্থাৎ তাঁর জন্য শান্তি কামনা করতে হবে । মানুষ ইন্তেকাল করলে জানাযা আদায় করার সকল দোয়া সমুহেও মৃতের জন্য শান্তি কামনা করতে হয় । মুসলমানদের কবর দেখলে বা জিয়ারত করার সময় কবরবাসীকে আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর অর্থাৎ কবরবাসীর জন্য শান্তি কামনা করতে হবে । 

মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম পবিত্র কা'বার দোয়া কবুলের স্থানে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন । সুরা বাকারার ১২৬ আয়াতে আছে, ইব্রাহীম যখন বলেছিলো, হে মালিক ! এ শহরকে তুমি শান্তিময় ও নিরাপত্তার নগর বানিয়ে দাও ।
যে জাতির পিতা স্বয়ং সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর শাহী দরবারে ধরনা ধরেন, সেই জাতি কি সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদে নিজেদেরকে জড়াতে পারে ? ইসলাম মানুষকে আল্লাহ তা'য়ালার কাছে সহজ-সরল শান্তির পথ কামনা করতে শিক্ষা দিয়েছে । নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিগন প্রত্যেকদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে বারবার সুরা ফাতিহা তেলাওয়াত করে থাকেন । এই সুরার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে থাকেনঃ 'তুমি আমাদের সহজ-সরল ও অবিচল পথটি দেখিয়ে দাও' । 
যে মুসলমান প্রত্যেকদিন ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত নামাজেই সুরা ফাতুহার মাধ্যমে ৩২বার মহান আল্লাহর কাছে কাঁতর কন্ঠে আবেদন করে "আমাদের সহজ-সরল ও অবিচল পথটি দেখাও" সেই মুসলমানের পক্ষে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা জঙ্গিবাদী তৎপরতার পথে অগ্রসর হওয়া কি সম্ভব ? প্রকৃত মুসলমানদের সাথে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদের ঐ দুরত্ব রয়েছে, যে দুরত্ব পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে রয়েছে । ইসলামের নামে যে বা যারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী তৎপরতা চালাচ্ছে, তারা না জেনে অথবা ইসলামের দুশমনদের হাতের পুতুল হিসেবেই চালাচ্ছে । বলাবাহুল্য ইসলাম ও ইসলামপন্থিদের বদনাম করার লক্ষেই শত্রুপক্ষ মুসলিম নামধারী এসব লোককে ব্যবহার করছে ।
ইসলামের ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্তর প্রত্যেক পরিসরে ও মুসলিম জীবনের সুচনা এবং সমাপ্তি তথা দুনিয়া-আখিরাতের সবস্থানে শধু শান্তি কামনা ও প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে । সেই ইসলামে সন্ত্রাসবাদ আর জঙ্গিবাদের গন্ধ অনুসন্ধান করা, আল্লাহর আইন চালুর নামে মানুষ হত্যা করা, দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করা, একমাত্র মূর্খ, জাহিল, জ্ঞানপাপী, ইসলাম-মুসলমান ও দেশের শত্রুদেরই কাজ হতে পারে । আর যারা নিজেকে মুসলমান দাবি কোরে ইসলামের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পথ অনুসরণ কোরে দেশে বিশৃঙ্খল ও বিপর্যয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তারা স্পষ্টতই ভ্রান্ত পথের অনুসারী এবং এ পথ গিয়েছে জাহান্নামে । বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এসব লোকদের জন্য আল্লাহ তা'য়ালা বলেনঃ "তাদেরকে যখনই বলা হয়েছে 'তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না' তখনই তারা বলেছে ' আমরা তো সংশোধনকারী মাত্র । (সুরা বাকারা -১১) 
সন্রাস আর জঙ্গিবাদ নির্ভর পথ অনুসরণ করে বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে মানুষ হত্যাকারীদের যখন বলা হচ্ছে, 'তোমরা কেনো এই বিপর্যয় সৃষ্টি করছো ? তারা জবাব দিচ্ছে, আমরা আল্লাহর আইন কায়েমের জন্য এই কাজ করছি' । অর্থাৎ অশান্তি সৃষ্টিকারী অন্য সকল আইন বাতিল করে আল্লাহর শান্তিময় আইন কায়েমের লক্ষে এসব করছি । এসব মূর্খ জাহিলরাই যে প্রকৃত অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, এই চেতনাই এদের মধ্যে নাই । এসব চেতনাহীন দুষ্কৃতিদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ১২ আয়াতে বলেনঃ "সাবধান ! প্রকৃতপক্ষে এরাই বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, কিন্তু এর কোনো চেতনাই তাদের নেই" । 
ইসলামের দুশমন কর্তৃক বিভ্রান্ত হয়ে বোমাবাজ মানুষ হত্যাকারী সন্ত্রাসীরা ইসলামের নামে দেশে যে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে এবং নিজেকে যে নবীর উম্মত তথা অনুসারী হিসেবে দাবি করছে, সেই নবীয়ে রহমত সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ "রাসুলের জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ" । নিশ্চয় তুমি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী । তুমিই সবথেকে সহজ-সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ।
যে মহামানবকে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্বোত্তম আদর্শের অধিকারী ও করুণার মূর্তপ্রতীক  হিসেবে সনদ দিয়েছেন, সেই মহামানব রহমাতুল্লিল আলামীনের অনুসারী হিসেবে নিজেকে দাবি করে বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে কিংবা মানুষের গলা কেটে হত্যা করে এবং নিজেকে হত্যা করে 'জান্নাতে যাবার' প্রলোভন যারা দেখাচ্ছে, তাদের পরিচয়, তারা ইসলাম-মুসলমান, দেশ-জাতি ও সমগ্র মানবতার দুশমন । সচেতন মহলের চোখগুলোকে সিসি টিভিতে পরিণত করে এদেরকে ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে এবং এদের ওপর কুরআন ঘোষিত বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সাথে সম্পর্কিত সর্বোচ্চ দন্ড প্রয়োগ করাই বর্তমান সময়ের দাবি । ***** চলবে *****

শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০১৬

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদঃ আল্লামা সাঈদী


বর্তমান পৃথিবীতে এমন একটি দেশ নেই, যে দেশ এবং দেশের জনগন সন্ত্রাস নামক ভয়ানক দানবের আতংকে আতংকিত নয় । প্রত্যেকটি দেশেই সন্ত্রাস ক্রমাগতভাবে বিস্তৃত হচ্ছে । সন্ত্রাস নামক দানবের ভীতিকর পদচারনায় কম-বেশী পৃথিবীর প্রত্যেক জনপদেই অনুভুত হচ্ছে । পরস্পরের মধ্যে মতবিরোধ প্রতিহিংসা চরিতার্থের পর্যায়ে উপনীত হয়ে যেমন সামাজিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাস বিস্তৃত হচ্ছে তেমনি নানা মতবাদ মতাদর্শে বিশ্বাসী এক শ্রেনীর লোকজন সাংগঠনিকভাবে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড  সংঘটিত করছে । সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারনে ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানুষ যেমন নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছে, তেমনি সামস্টিকভাবেও মানুষ নিরাপত্তাহীনতার শিকার । নির্বিঘ্নে শংকামুক্ত পরিবেশে কোন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানুষ একত্রিত হতে আতংকবোধ করছে ।
কর্মস্থল, ভ্রমণস্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সভা-সমাবেশ, দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাহিরে যাতায়াতের বাহন, বিপণী কেন্দ্র ও চিত্ত বিনোদনের কেন্দ্রসমুহ এবং অন্যান্য জনসমাগমের স্থানসহ এমন একটি স্থানও নেই, যেখানে মানুষ সন্ত্রাস কিংবা জঙ্গিবাদ আতংকে তাড়িত হচ্ছে না । ভ্রান্ত বিশ্বাস ও উগ্র মতবাদ-মতাদর্শের অনুসারীরা সরকারী স্থাপনা, ধর্মীয় স্থান, বিদেশী দুতাবাস, সচিবালয়, রাজনৈতিক কার্যালয়, বিচারালয়, রেলওয়ে স্টেশন, বিমান বন্দর, শপিং সেন্টার, গ্যাস ও তেল ক্ষেত্র ইত্যাদী গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমুহ এবং জনসমাগম স্থলকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালিত করে ব্যাপক প্রানহানী এবং মুল্যবান সম্পদের ক্ষতি করছে ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নাইজেরিয়ায় আমেরিকান দুতাবাসে, ভারতের পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে, আমেরিকার টুইন টাওয়ারে, ব্রিটেনের পাতাল রেলে, তুরস্কের বিভিন্ন বিপণীকেন্দ্র, ফ্রান্সের রেলওয়ে ষ্টেশন, জর্ডানের পাচ তারকা হোটেলে, পাকিস্তানের ধর্মীয় উপসানালয়সহ বিভিন্ন স্থানে, সৌদিআরবের নানান স্থানে, মিশরে শপিং সেন্টারে, নেপাল, শ্রিলংকা, ইরাক, ইরান ও আফগানিস্থানের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশে আদালতে, ধর্মীয় উপসানালয়, রাজনৈতিক কার্যালয় এবং সমাবেশে ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে অগণিত মানুষ হত্যা করা হয়েছে, মুল্যবান সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে ও অসংখ্য মানুষকে চিরতরে পঙ্গু বানিয়ে দেয়া হয়েছে । 
সন্ত্রাসী কিংবা সেনা অভ্যুথান(!) ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থপতি রাস্টপতি শেখ মুজিবর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক, ইরানের পার্লামেন্টে বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে হত্যা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ আলী রেজাই সহ কয়েকজন মন্ত্রী এবং পার্লামেন্টের সদস্যসহ ৮০ জনকে । এছাড়া গুপ্তঘাতক লেলিয়ে দিয়ে বেশ কয়েকজন ধর্মীয় নেতাকে ইরানে হত্যা করা হয়েছে । ফিলিপাইনের জননন্দিত প্রেসিডেন্ট বেনিনগো একুইনোকেও সন্ত্রাসীদের হাতে প্রান দিতে হয়েছে । শ্রীলংকার জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট রানা সিংহে প্রেমাদাসকে প্রান দিতে হয়েছে বোমাবাজদের হাতে । লেবাননের সাবেক প্রেসিডেন্ট রফিক হারিরীকেও সন্ত্রাসীদের হাতেই প্রান দিতে হয়েছে । মুসলিম বিশ্বের বিষফোড়া ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রবিনও সন্ত্রাসী ইয়াহুদী তরুণের হাতে নিহত হয়েছেন । আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনও সন্ত্রাসী কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ।
ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য স্বাধীনতা বা স্বধিকার আন্দোলন করছে । পাঞ্জাবের শিখ সম্প্রদায় স্বধীন খালিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবীতে আন্দোলন গড়ে তোলে এর নেতৃত্ব দিতে থাকে আকালী দলের মাধ্যমে শিখ নেতা হরচান্দ সিং লাঙ্গোয়াল ও সুরঞ্জিত সিং বার্নলা । শিখদের স্বাধীনতা আন্দোলন দমিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে সান্ত সিং ভিন্দারনওয়ালের নেতৃত্বে পাল্টা উপদল সৃষ্টি হয় । ভারত সরকার সেই উপদলকে অর্থ ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিয়ে সাহায্য করে । এমনকি স্বধীনতা আন্দোলনের নেতাদের হত্যা করার জন্য অস্ত্র দিয়েও সহযোগিতা করে ভারতের পরিচিত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো । 
কিন্তু শিখদের উপদলের নেতা সান্ত সিং ভিন্দারনওয়ালে এতোটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠে যে, শিখদের পবিত্রস্থান অমৃতস্বরের 'স্বর্ণ' মন্দিরকে কেন্দ্র করে তারা এক বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে এবং সারা ভারতব্যাপী সন্রাসী তৎপরতা চালাতে থাকে । এদেরকে যে ভারত সরকার সৃষ্টি করেছিলো, তারাই অবশেষে কমান্ডো বাহিনী পাঠিয়ে স্বর্ণ মন্দিরের অভ্যন্তরেই দলবলসহ  সান্ত সিং ভিন্দারনওয়ালকে হত্যা করে । এরই পরিণতিতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধিকেও শিখদের হাতে প্রান হারাতে হয় ।  
শ্রীলঙ্কাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখার লক্ষে প্রায়ত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে শ্রীলংকার তামিল গেরিলাদের প্রতি সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া হয় এবং ভারতের অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তামিল গেরিলারা গোটা শ্রীলংকা জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে । প্রায়ত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পুত্র রাজিব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তিনি যখন শ্রীলঙ্কায় রাস্ট্রীয় সফরে যান, তখন গার্ড অব অনার গ্রহণকালে এক সৈনিক তার মাথা লক্ষ করে রাইফেলের ব্যাটন দিয়ে আঘত করে । সে যাত্রা তিনি রক্ষা পেলেও সেই তামিল গেরিলাদের হাতেই শেষ পর্যন্ত তিনিও মায়ের অনুরূপ পরিণতি ভোগ করেন । সন্ত্রাস নামক যে দানবকে ইন্দিরা-রাজিব গান্ধী দুধ-কলা হৃষ্টপুষ্ট  করেছিলেন, সেই দানবের ছোবলেই মাতা পুত্রকে প্রান হারাতে হয়েছে । ভারতের জনক বলে খ্যাত মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে প্রথমে ১৯৩৪ সালে ২৫ জুন পুনে শহরে রেল ষ্টেশনে বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে হত্যার চেস্টা করা হয় । দ্বিতীয়বার ১৯৪৬ সালে ঐ একই পদ্ধতিতে জুন মাসে হত্যার চেষ্টা করা হয় । ১৯৪৮ সালের ২০শে জানুয়ারী তৃতীয়বার হত্যার চেষ্টা করে মদনলাল নামের এক সন্ত্রাসী । এরমাত্র ১০দিন পর ৩০শে জানুয়ারী নাথুরাম গডসে নামক এক সন্ত্রাসীর হাতে তাকে প্রান হারাতে হয় । পাকিস্তানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানও সন্ত্রাসীদের হাতেই প্রান হারিয়েছেন ।
সাম্রাজ্যবাদী দেশসমুহের অন্যতম ঘৃণ্য নীতি হলো, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরে নানাধরনের উপদল সৃষ্টি করে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে অস্থির করে রাখা । ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনী পরাজয়ের দ্বার প্রান্তে উপনীত হলো, আওয়ামীলীগ কর্তৃক স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের সম্ভাবনা যখন উজ্জল হয়ে উঠলো ঠিক সেই মুহূর্তে ভারত সরকার অত্যন্ত গোপনে দেরাডুনে আরেকটি উপদল গঠন করে । এদেরকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মন্ত্রে দীক্ষিত করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রেরন করে । এরা নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে । তারপরের ইতিহাস আপনারা অনেকেই জানেন । অবশেষে প্রান দিতে হয়েছে স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবর রহমানকে ।
অনুরূপভাবে পরাশক্তি আমেরিকা সৌদিআরবের সরকারকে অস্থির রাখার লক্ষে সৌদি ধনকুবের উসামা বিন লাদেনকে প্রশিক্ষন দিতে থাকে । লাদেন পরিবারের সাথে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশ পরিবারের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো । লাদেনকে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে আমেরিকা সৃষ্টি করলো আল-কায়েদা সংগঠন । এরপর তাদেরকে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে উস্কে দিয়ে সৌদি সরকারকে অস্থির করে তোলে । এক পর্যায়ে তাদের মাধ্যমে পবিত্র কাবাঘরও দখল করিয়ে পবিত্রস্থানে রক্তপাত ঘটানো হলো ।
তৎকালীন পরাশক্তি অখন্ড রাশিয়া আফগানিস্থান দখল করার পরে বিনলাদেনকে আমেরিকা প্রচুর সামরিক সরঞ্জামে সজ্জিত করে আফগানিস্থানে টেনে এনে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দাড় করালো । রুশ বাহিনী আফগানিস্থান ত্যাগ করার পরে আমেরিকা ও বিন লাদেনের "মধুচন্দিমায়" ফাটল ধরলো এবং লাদেনকে উপলক্ষ করেই আফগানিস্থান ও ইরাকে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে দেশ দুটো দখল করে অগণিত মুসলমানকে (নারী-শিশু) নির্বিচারে হত্যা করলো । সেই হত্যার ধারাবাহিকতায় এখনও প্রতিদিন সে দেশে দুটোয় প্রানহানী ঘটছে । আমেরিকা বিন লাদেন  অধ্যায় যবনিকা এখানেই ঘটায়নি, নিজেদের স্বার্থে সৃষ্ট আল কায়েদাকে উপলক্ষ করে ইরান, সিরিয়া, লিবিয়া, মিশর সহ অন্যান্য মুসলিম দেশসমুহে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে মুসলমানদের ব্যাপক প্রানহানী ঘটানো পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই চুড়ান্ত করে ফেলেছে ।  
পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নিজেদের স্বার্থে সৃষ্ট নানা ধরনের জঙ্গি সংগঠনকে অর্থ ও সামরিক সাহায্য দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে । বর্তমানে এই সন্ত্রাসে এতোটাই ব্যাপক এবং ভয়ানক আকার ধারন করেছে যে, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের মনেই চরম এক আতংক সৃষ্টি করেছে । শান্তিপ্রিয় মানুষের মন থেকে মুছে গিয়েছ স্বস্তি, নিরাপত্তাবোধ, সে স্থানে দখল করেছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা । কিন্তু দুঃখজনক হলেও একথা সত্য যে, পৃথিবীর  যেখানেই সন্ত্রাসী তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেখানেই মুসলমানদের সাথে এই ঘৃণ্য কর্মের যোগসুত্র আবিস্কার করা  হচ্ছে । আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমে সিন্ডিকেট সংবাদ একমাত্র মুসলমানদের দিকেই আঙ্গুল তুলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, মুসলমানরাই এই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটিয়েছে । শুধু তাই নয়, মুসলমানদের নামের সাথে সাথে সন্ত্রাসের প্রতি অসহিস্নু সর্বোত্তম জীবন বিধান পবিত্র ইসলামের নাম যুক্ত করে বলা হচ্ছে, ইসলামী উগ্রবাদী ও ইসলামী মৌলবাদীরাই সর্বত্র সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে । كنتم خير أمة أخرجت للناس .تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر .وتؤمنون بالل 
মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেনঃ- তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতী। তোমাদেরকে বের করে আনা হয়েছে এ পৃথিবীতে মানবতার কল্যানের জন্য । আর সেটা হল সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের দ্বারা । আর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে । যাদের সৃষ্টিই হল মানবতার কল্যান সাধনের জন্য তারা কখনো সন্ত্রাস আর জংগি বাদী হতে পারেনা । 
কিন্তু কেন এই সন্ত্রাস ? কি এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ? প্রকৃত সন্ত্রাসী কারা ? জঙ্গিবাদী দল কারা সৃষ্টি করেছে ? ক্ষেত্র বিশেষে সন্ত্রাসী তৎপরতায় মুসলিম নামধারী লোকদের কেন ব্যবহার করা হচ্ছ্বে ? সন্ত্রাসের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব কেনোইবা ইসলাম এবং মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে ? এসব বিষয়ে সচেতন মানুষেরই স্পস্ট ধারনা থাকা একান্ত প্রয়োজন । আশা করি পরবর্তী ইতিহাস ভিত্তিক তাত্তিক আলোচনা পাঠ করলে সকলের কাছেই পরিস্কার হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ ।


বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলামঃ মাওলানা সাঈদী

অভিভাবক, খতীব ও ঈমামগনের দায়িত্ব


বর্তমানে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে শত্রুপক্ষ যে কৌশলে অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তা প্রতিহত করা সরকারেরই দায়িত্ব নয় । দেশের জনগনকে নিজেদেরই স্বার্থে এ ব্যপারে পূর্ণ সচেতন হতে হবে এবং শত্রুদের দমন করার জন্য ঐকান্তিক প্রচেস্টা চালাতে হবে । এ ব্যাপারে দল, মত,  জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রেনীর নাগরিককেই এগিয়ে সাওতে হবে । 'আমার পছন্দের দল সরকারে নেই, সুতরাং সরকারের দুর্নাম হলে আমার কিছুই যায় আসে না' এই মনোভাব ত্যাগ করতে হবে । যান-বাহনে বা স্কুল অথবা মসজিদে বোমা বিস্ফোরন ঘটলে এতে শুধু সরকারি দলের লোক বা সরকারি দলের সমর্থক লোকদের সন্তানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না । সকল শ্রেনীর মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সতরাং দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে দলপ্রেম নয় দেশ প্রেমিক হিসেবে সাধ্যানুযায়ী ভুমিকা পালন করতে হবে ।
অভিভাবকগণকে লক্ষ রাখতে হবে, সন্তান কি করছে, কোথায় যাচ্ছে ? এবং কোন শ্রেনীর লোকদের সাথে মেলামেশা করছে । দল হিসেবে সন্তান, ভাই অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন এবং অধীনস্ত কর্মচারী কোন দলকে পছন্দ করছে । ইসলামের নামে কোনো ব্যাক্তি কাউকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করছে কিনা সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে । কে কোন ধরনের বই পড়ছে, ফোনে আভাষে- ইঙ্গিতে জাতিসত্তা ও দেশের প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কোন আলোচনা করছে কিনা এ ব্যাপারে অভিভাবকগনকে সচেতন ভুমিকা পালনে এগিয়ে আসতে হবে ।


অভিভাবকগন যদি অনুভব করেন যে, তার সন্তান, ভাই অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের কেউ অথবা অধীনস্থ কেউ ইসলামের লেবাসধারী হঠাৎ গজিয়ে ওঠা কোনো সংগঠনের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাহলে তাকে প্রকৃত ইসলাম ও ইসলামী দল সম্পর্কে বুঝিয়ে ঐসব সন্রাসবাদী-জঙ্গিবাদী সংগঠনের ছোবল মুক্ত করতে হবে । আর যদি বুঝা যায় যে, আদর ভালোবাসা দিয়ে, চেস্টা সাধনা করেও এদেরকে ভ্রান্ত পথ থেকে ফেরানো যাবে না, তাহলে মায়া মমতা বিসর্জন দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে এদেরকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিন । মনে রাখবেন, আপনার অধীনস্থদের ব্যাপারে কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর আদালতে কঠিনভাবে জবাব্দিহি করতে হবে । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ যে বান্দাকেই বেশী অথবা কম লোকের তত্ত্বাবধায়ক বানিয়েছেন, কিয়ামতের দিন অবশ্যই তাকে প্রশ্ন করা হবে যে, সে অধীনস্থ লোকদের দ্বীনের উপর চালিয়েছিল না ধ্বংস করে দিয়েছিলো । বিশেষ করে তার বাড়ির পরিবারের লোকদের ব্যাপারেও হিসেব গ্রহন করবেন ।
মায়া মমতা ও ভালোবাসার বশবর্তী হয়ে আপনজনদেরকে যদি ধ্বংসের পথ থেকে ফিরানো না হয়, তাহলে কিয়ামতের দিন এরা যখন আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলবে, যারা আমাদের সঠিকপথের সন্ধান দেননি, ভুল পথে চলতে দেখেও নিষেধ করেননি, তারা আজ কোথায় ? তাদেরকে পায়ের নিচে ফেলে পিষে তারপর জাহান্নামে যাবো । তারা যা বলবে, পবিত্র কুরআনে সে কথাগলো এভাবে তুলে ধরা হয়েছেঃ আমরা তাদের পদদলিত করবো, যাতে তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয় । আস-সাজদাহ#২৯ 
শিক্ষকগন অভিভাবকদের বড় অভিভাবক । তারা শ্রেনীকক্ষে পাঠদানের সময়  ছাত্রদেরকে বুঝাবেন 'আল্লাহর আইন চালুর নামে যারা সন্ত্রাস করছে তারা আসলে আল্লাহর আইনের দুষমন । ইসলামের শত্রুদের হাতের পুতুল হিসেবেই তারা কাজ করছে । ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই এবং ইসলাম সবসময় নিয়মতান্ত্রিক পন্থাই অনুসরন করে । আদালতে বোমা মেরে বিচারক হত্যা, রেস্টুরেন্টে বিদেশি বন্ধিকরে গলা কেটে হত্যা করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমান করে বিদেশী আগ্রাসনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে ।
সম্মানিত খতীব, ঈমাম ও ওয়ায়েজীনগনকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে । এভাবে যদি ইসলামের নামে শ্ত্রুপক্ষ সন্ত্রাস চালাতে থাকে তাহলে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ইসলাম সম্পর্কে অনভিজ্ঞ লোকগুলো ইসলামের ব্যাপারে ভুল ধারনা পোষণ করবে । আর এ জন্য আল্লাহর দরবারে আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখদেরই দায়ী হতে হবে । আলেম সমাজই ইসলাম সম্পর্কে সবথেকে বেশী জ্ঞান রাখেন এবং আল্লাহর আদালতে কোন কোন বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে, এব্যাপারেও তারা পূর্ণ সচেতন রয়েছেন । 'আল্লাহর আইন চালুর নামে যারা সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে, এ ব্যাপারে সাধারন মানুষকে প্রকৃত ইসলাম সম্পর্কে না করে আল্লাহর আদালতে সর্বগ্রে আলেমদেরই জবাবদিহি করতে হবে, এব্যাপারেও আলেম সমাজ সচেতন রয়েছেন ।
যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী মাহফিলে বক্তৃতা করেন, তারা কুরআন-হাদীস দিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবেন এবং ইসলামী জীবন বিধান শ্রোতাদের সম্মুখে তুলে ধরবেন । খতীব ও ঈমামগন সপ্তাহে একদিন অর্থাৎ জুমাবারে অনেকলোক সম্মুখে পেয়ে থাকেন । বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে খুতবায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলোচনা করে সাধারন নাগরিকদেরকে সচেতন করুন । তাদেরকে একথা বুঝান,  যারা আল্লাহর আইন চালুর নামে বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে বা বিচার বহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে পিতামাতাকে সন্তানহারা করছে, স্ত্রীকে স্বামীহারা করছে, সন্তানকে এতিম করছে, বোনকে ভাইহারা করছে, পরিবারের উপার্জনশীল একমাত্র ব্যক্তিকে হত্যা করে গোটা পরিবারকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করছে, তারা অবশ্যই ইসলাম, মুসলমান, দেশ-জাতি ও সমগ্র মানবতার দুষমন । এদের সন্ধান পাওয়ামাত্র আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফোন করে ধরিয়ে দিন । তাদেরকে বিচারের সম্মুখিন করুন ।
সরযন্ত্রকারীরা বোমাবাজদের দিয়ে যে লক্ষ ও উদ্দেশ্য নিয়ে সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে সৃষ্টিতে নামিয়েছে, তারা যদি আল্লাহ না করুন সফল হয়, তাহলে এর প্রথম শিকার আলেম-উলাম মাশায়েখ তথা ইসলাম পন্থীদেরকেই হতে হবে । দেশের মাদরাসা গুলো বন্ধ করে দেয়া হবে । কারাগার গুলো আলেম উলামা দিয়ে পরিপূর্ণ করা হবে । সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি আস্থা, বিসমিল্লাহ উঠিয়ে দেয়া হবে । নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলিহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কুটুক্তি বা কটুবাক্য প্রয়োগ করে কবিতা- সাহিত্য রচনা করা হবে । ইসলামী প্রতিষ্ঠান সমুহ বন্ধ করে দেয়া হবে । মুসলমানদের কলিজা পবিত্র কুরআনের অবমাননা করা হবে । সর্বোপরি ইসলাম ও মুসলমানদের হেয়-প্রতিপন্ন করা হবে এবং আলেম-উলামদেরকে ব্যং-বিদ্রুপের পাত্রে পরিনত করা হবে । সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে, যার ফলশ্রুতিতে কুরআন-হাদীসের বিধান প্রচার, প্রসার- স্বাধীনভাবে খুতবা পাঠ ও ইসলামী আন্দোলন নিসিদ্ধ ঘোষণা করা হবে ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে ভয়াবহ এই পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে উত্তরণের তাওফিক এনায়েত করুন । আমীন- ইয়া রব্বাল আলামীন























বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬

আল্লামা সাঈদীর  কারাজীবনের ৬টি বছর

২৯ জুন । বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেক কালো দিন ।
আল্লামা সাঈদীর  কারাজীবনের ৬টি বছর পূর্ণ হলো আজ ।
এই ৬ বছরের মোট ২১৯০ দিনে কতোই না ঘটনা ঘটে গেছে আমাদের জীবনে । আমার আব্বা হারিয়েছেন তাঁর মমতাময়ী মাকে, তাঁর কলিজার টুকরা বড় সন্তান মাওলানা  রাফীক বিন সাঈদীকে । দুজনের দাফন তিনি দিতে পারেন নাই শুধু নয় আজও তাদের কবরটা দেখতে পারেন নাই !

২০১০ সালের এইদিনে বিশ্ব নন্দিত মুফাসসির, আল্রামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে হাস্যকর এক মামলায় গ্রেফতার করে আওয়ামী সরকার । গ্রেফতার করে এই জালিম সরকার টানা ৪১ দিনের রিমান্ডে নেয় আল্লামা সাঈদীকে । তাঁর মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন নেতার বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন ও এতো দীর্ঘদিনের রিমান্ড মঞ্জুর রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল । অত:পর শতাব্দীর নিকৃষ্টতম মিথ্যাচার করে আল্লামা সাঈদীকে 'যুদ্ধাপরাধী' বানানোর অপচেষ্টা এবং সবশেষে বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়ে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফাঁসির রায় ও পরবর্তীতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ঘোষনা করে ফ্যাসিবাদি আওয়ামী সরকার ।



আল্রামা সাঈদীর অপরাধ, তিনি আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করেন । তার অপরাধ, তিনি কোরআনের দাওয়াত বাংলার প্রতিটি আনাচে কানাচে পৌছে দেন । তার অপরাধ, তিনি ধর্ম নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে কথা বলেন । তার অপরাধ, তিনি আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেন ।  তার অপরাধ, তার কথা শোনার জন্য লাখো মানুষ জড়ো হয় । তার অপরাধ, তার মুখে কোরআনের তাফসীর শুনে সহস্রাধিক অমুসলিম ইসলাম গ্রহন করেছে। তার অপরাধ, তাকে লাখো কোটি মানুষ তাদের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসে !!

প্রচণ্ড গরম ও নিঃসঙ্গ একাকিত্ব নিয়ে বর্তমানে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে বন্দী জীবন যাপন করছেন বিশ্ববরেণ্য এই আলেমে দ্বীন । ফ্যাসিবাদি এই সরকার আল্লামা সাঈদীকে বন্দী করে রাখেনি, বন্দী করে রেখেছে কোরআনের পাখিকে । বন্দী করে রখেছে, ১৬ কোটি জনতার আবেগ-অনুভুতি আর ভালোবাসাকে । বন্দী করে রেখেছে কোটি জনতার হৃদয় স্পন্দনকে ।


আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা রায় ঘোষনার পরে দেশপ্রেমিক জনতা আল্লামা সাঈদীকে কতখানি ভালোবাসে তার প্রমাণ বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছে । একজন মানুষের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষনার পরে অন্যায় মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে প্রায় আড়াই শত মানুষের জীবনদানের ঘটনা পৃথিবীতে আর কখনো, কোনদিন ঘটেনি ।

আজ রমাদানের নাজাতের এই শেষ দশকে আসমান ও জমিনের মালিকের কাছে বিনয়াবনত চিত্তে আমরা প্রার্থনা করছি,


হে আরশের মালিক !!
রক্ত স্রোতে ভাসিয়ে এই জাতির ঈমানের পরীক্ষা এতো কঠোরভাবে তুমি নিও না । তোমার কাছে চাইতে কৃপণতা করব না হে পরওয়ারদিগার,
তুমি আল্লামা সাঈদীকে কুরআনের ময়দানে ফিরিয়ে দাও ।
আমরা জানি তুমি চাইলে হাজারো ‘সাঈদী’ এই দুনিয়ায় পাঠাতে পারবে
কিন্তু আমাদের তো এই মুহুর্তে সাঈদীকেই আজ বেশি প্রয়োজন !

ও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন !
তোমার জাতের কসম, তোমার ইজ্জতের কসম !
তুমি আমাদের কলিজার টুকরা ‘সাঈদীকে’ আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দাও ।।
#FreeAllamaSayedee #SaveBangladesh — feeling হে আল্লাহ্‌! তুমি কুরআনের পাখিকে কুরআনের ময়দানে ফিরিয়ে দাও...