রবিবার, ৩১ মে, ২০১৫

শবে বরাত পালন বিদআত


যখন তাদের বলি শবে বরাত পালন করবেন না এটা ইসলামে নেই, তাই এটা বিদ’আত, তখন তারা বলে,
-‘কীভাবে এটা বিদআত হলো’?
-‘নফল নামায রোজা করা কীভাবে বিদ’আত হতে পারে’?
-‘দেশের এত, এত মানুষ এটা পালন করছে তারা কি সবাই ভুল’?
-‘এত আলেম, হুজুরেরা এটা পালন করছে তারা কি সবাই ভুল’?
-‘তারা কি কুরআন হাদিস পরে না? তারা কি জানে না? ইত্যাদি ইত্যাদি...’
দেখুন সংখ্যা বেশী হলেই যে কোন পক্ষ হক্ব তা কিন্তু প্রমান হয় না। নিচে এই সম্পর্কিত মহান আল্লাহ্‌র বানীটি একটু দেখুন-
وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ
-যদি আপনি দুনিয়ায় বসবাসকারী অধিকাংশ লোকের কথায় চলেন তাহলে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলবে৷ তারা তো চলে নিছক আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে এবং তারা কেবল আন্দাজ-অনুমানই করে থাকে৷ [সূরা আল-আনআম ৬/১১৬]

►অর্থাৎ দুনিয়ার অধিকাংশ লোক নির্ভুল জ্ঞানের পরিবর্তে কেবলমাত্র আন্দাজ অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাদের আকীদা-বিশ্বাস,দর্শন, চিন্তাধারা, জীবন যাপনের মূলনীতি ও কর্মবিধান সবকিছুই ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে আল্লাহর পথ অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী দুনিয়ায় জীবন যাপন করার পথ মাত্র একটিই। সেটি হচ্ছে, আল্লাহ নিজে যে পথটি জানিয়ে দিয়েছেন-লোকেরা নিজেদের আন্দাজ-অনুমান ও ধারণা-কল্পনার ভিত্তিতে নিজেরাই যে পথটি তৈরী করেছে, সেটি নয়। কাজেই দুনিয়ার বেশীর ভাগ লোক কোন্ পথে যাচ্ছে, কোন সত্য সন্ধানীর এটা দেখা উচিত নয়, বরং আল্লাহ যে পথটি তৈরী করে দিয়েছেন তার ওপরই তার দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলা উচিত।
ইসলাম চলবে কোরআন ও হাদীস এর দলিল অনুযায়ী, কোন বাপদাদা বা হুজুরের দোহাই দিয়ে নয়! রাসুল ﷺ এর সময় বাপ দাদার দোহাই দিতো ইহুদী-খৃষ্টানেরা। আপনারাও যদি বাপ দাদার দোহাই দিয়ে সত্যকে অস্বীকার করেন, তাহলে ঐ ইহুদী-খৃষ্টানদের সাথে আপনার পার্থক্য থাকলো কোথায়? দেখুন মহান আল্লাহ কোরআনে আরও বলেন,
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا ۗ أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ
-তাদের যখন বলা হয়, আল্লাহ যে বিধান নাযিল করেছেন তা মেনে চলো, জবাবে তারা বলে, আমাদের বাপ-দাদাদের যে পথের অনুসারী পেয়েছি আমরা তো সে পথে চলবো৷ আচ্ছা, তাদের বাপ-দাদারা যদি একটুও বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ না করে থেকে থাকে এবং সত্য-সঠিক পথের সন্ধান না পেয়ে থাকে তাহলেও কি তারা তাদের অনুসরণ করে যেতে থাকবে? [সুরা আল-বাকারা ২/১৭০]
►অর্থাৎ বাপ-দাদাদের থেকে এভাবেই চলে আসছে এ ধরনের খোঁড়া যুক্তি পেশ করা ছাড়া তাদের কাছে এসব বিধি-নিষেধের পক্ষে পেশ করার মতো কোন সবল যুক্তি-প্রমাণ নেই। বোকারা মনে করে কোন পদ্ধতির অনুসরণ করার জন্য এই ধরনের যুক্তি যথেষ্ট।

হজ্জে সফরের আদব

হজ্জের সফরে যাত্রা করার পূর্বে হকদারদের হক ফেরত দিতে হবে, ফেরত দিতে না পারলে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে । কারো আমানত থাকলে তা প্রত্যারপন করতে হবে । ঋন থাকলে তা আদায় করতে হবে । কারো মনে আঘাত দিয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে । দেনা পাওনা থাকলে তা স্পস্ট লিখে যেতে হবে এবং উত্তরাধিকারীদের জানিয়ে যেতে হবে যে, অমুকের কাছে ঋনী আছি তা আমার সম্পদ থেকে পরিশোধ করতে হবে । যাবতীয় খরচ বহন করতে হবে হালাল উপার্জন দিয়ে । যা খরচ হবে তা থেকেও একটু বেশী অর্থ সাথে নিতে হবে, কারন অন্যের প্রয়োজন পুরন করতে হতে পারে বা নিজের খরচও বেশী হতে পারে । হজ্জ আদায় করেছেন এমন অভিজ্ঞ আলেমে দ্ব্বনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন । হজ্জের সফরে এমন একজন ভালো সাথী খুজে নিতে পারেন, যেন প্রয়োজনে কাজে আসে । কোণো অবস্থাতেই অন্যের অসুবিধা করা যাবে না । সব সময় অন্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে । মনে রাখতে হবে, হজ্জের সকলেই মহান আল্লাহর মেহমান । আল্লাহর মেহমানগন যেন কস্ট না পায় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে ।
সকলের সাথে সুন্দর আচরন করা এবং অন্যের প্রয়োজনের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা । কারো আচরন পছন্দ না হলেও ধৈর্যয়ের সাথে সবকিছু গ্রহন করা এবং সব সময় পবিত্র থাকা । মনে রাখবেন, মহান আল্লাহ তা'য়ালা পবিত্রতা ভালোবাসেন । শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে মুক্ত থাকার জন্য মনে মনে সবসময় তাসবীহ, তাহলীল পড়তে থাকুন । নিজের কাছে যে জিনিস রয়েছে তা অন্যের প্রয়োজন হলে দিয়ে সাহায্য করা উত্তম । সফর সঙ্গীদের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সেবাযত্ন করতে হবে । রোগীর সেবা যত্ন করা অনেক বড় সাওয়াবের কাজ । সফরের সময় প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে নিতে হবে এবং কোন কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না, কারন সফরকালে বদহজম হলে নানা ধরনের অসুবিধা সৃষ্টি হবে । সফরের সময় পানি কম পান করাই ভালো, এতে করে ঘন ঘন প্রসাবের বেগ আসতে পারে । সফরে যত কম মাল সামান নেয়া যায় ততোই ভালো ।
সফর শুরুর পূর্বে দুই রাকায়াত নফল নামায আদায় করা মুস্তাহাব । নামায শেষে নিজের নিরাপত্তা, পরিবার পরিজনের নিরাপত্তার ব্যাপারে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে । সেই সাথে নিজের জীবিত ও মৃত আত্মীয় স্বজন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করতে হবে । সবশেষে বাড়ি থেকে বের হবার সময় ডান পা এগিয়ে দিয়ে সফরের দোয়া পড়তে হবে । যান বাহনে উঠলে, যান বাহনে উঠার দোয়া পড়তে হবে । এসব দোয়া এ পুস্তকের দোয়া দুরুদ অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে । ---(চলবে)
"শারঈ' মানদন্ডে
দোয়া-যিকির,হজ্জ ও উমরা"

কোটি মানুষের হৃদয়ে, আজও জিয়া বেচে আছে ।

২৯ শে মে,১৯৮১
রোজ শুক্রবার,
সময় সকাল ৯টা
বিমান বাহিনির একটা সাধারণ বিমান এসে ল্যাণ্ড করল পতেঙ্গায়, ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন ৪৫ বছর বয়েসের চির সবুজ এক সুপুরুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, বিএনপির স্থানীয় নেতাদের অন্তর্কলহ মেটাবার জন্য ঢাকা থেকে এসেছেন তিনি ।
সারাদিন তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে কাটালেন । সাধারন সুতির ধবধবে সাদা পাজামা পাঞ্জাবী পরে চন্দনপুরা জামে মসজিদে জুমার নামায আদায় করলেন । দুপুরে একটু বিশ্রামও নিলেন । বিকেলে আবার দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে বসে সকল দন্দ কন্দলের সুরাহা করলেন । 

রাত ১১.১৫- রাতের (শেষ) খাবার খেলেন প্রেসিডেন্ট ।
রাত ১১.৪০- ঢাকায় স্ত্রী বেগম খালেদাকে টেলিফোন করেন, স্বামী স্ত্রীর শেষ কথপোকথন হয় প্রায় ১৫ মিনিট । অনেকটা নিশ্চিন্ত মনে ১১.৫৮-সাদা পাজামা আর গেঞ্জি পরে লাইট অফ করে শুয়ে পড়েন ক্লান্ত প্রেসিডেন্ট ।
গভীর রাত, চরম বৈরি আবহাওয়া চট্রগ্রামে, একদল ঘাতক তৈরি হচ্ছিল অশুভ কাজের নিমিত্তে, রাত তখন আড়াইটার মত, ঘাতকের দল এসে মিলিত হল কালুরঘাটের ট্রান্সফর্মারের পাশে, পিচাশদলের নেতৃত্বে ছিল লে. কর্ণেল মতিউর, সাথে ছিল লে.ক. মাহবুব, মেজর খালেদ, ফজলে হাসান, মেজর মোজাফফর প্রমুখ ।
 চট্রগ্রামের আকাশে ঘনকালো মেঘ আর সার্কিট হাউসে তখন কুৎসিত শকুন হায়েনাদের আগমন । রাত প্রায় সাড়ে তিনটা প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি আর প্রতিকুল প্রকৃতির মধ্যে দিয়ে যমের দল পৌছাল সার্কিট হাউসের গেটে, সম্পূর্ণ বিনা বাধায় ভিতরে প্রবেশ করে তান্ডব শুরু করল, বিশ্বস্ত প্রহরীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরপারে চলে গেল ।
গোলাগুলির শব্দে উশকুখুশকু চুলে ঘুমন্ত প্রেসিডেন্ট দুই হাত উচু করে বেরিয়ে জানতে চাইলেন কি চাও তোমরা ?
লে.কর্ণেল ভয়ে কাঁপছিলেন, মোসলেউদ্দিন কি যেন একটা বলতে চাইলেন, মুখের কথা মুখেই রইল অর্ধেক লে.ক. মতি এসে গুলিতে ঝাঝরা করে ফেলল রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে । মাটিতে লুটিয়ে পরলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার । একজন  সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধার রক্তে রঞ্জিত হলো চট্রগ্রাম সার্কিট হাউসের ফ্লোর । ওই রাতে তারা মরদেহটি নিয়ে রওনা হলো রাঙ্গুনিয়া,  রাউজান । 
৩০শে মে, ১৯৮১
মাঠে গরু বাধছেন এক বৃদ্ধ । ফজরের ওয়াক্ত, সূর্য ওঠেনি । হালকা আলোর বিকিরন মাত্র । সাদা চুল দাড়ির বৃদ্ধটির অনেক তাড়া । তাকে গরু বাধতে হবে । ফজরের জামায়াত ধরতে হবে । বাজারে যেতে হবে । গরুটা ইদানিং ঘাস খায় কিন্তু দুধ দেয় কম । ডাক্তারকে বলে ঔষধ নিতে হবে, এদিকে শাঁ শাঁ শব্দে রাস্তা দিয়ে বেশ কয়েকটা আর্মি লরী গেলো ।  একটু দূরে গিয়ে সব গুলো গাড়ি দাঁড়িয়ে গেলো । অনেক আর্মি জাওয়ান নামলেন । বড়ো ভয় পেলো । গুটিসুটি মেরে আইলের ধারে বসে পড়লো । যেন কেউ না দেখতে পায় ।

বুড়ো চোখে ভালো মতো দেখতে পাচ্ছে না । ২ থেকে ৩ জন আর্মি মাটি খুড়লো, তারপর লরী থেকে কি একটা বড় জিনিস নামিয়ে মাটি চাপা দিলো এবং দ্রুত গাড়ি গুলো যেদিক থেকে এসেছিলো সেদিকেই চলে গেলো । এমন বর্ণনা দিলেন বয়স্ক ওই বুড়ো থানায় এসে । আমি ব্যারাকে আছি, তখন ডিউটিতে যাবো, তৎক্ষণাৎ ওয়ার্ডার আসলো বেরিয়ে পরতে । লুঙ্গি পরা ছিলাম, ওই অবস্থায় রওনা দিলাম । বুড়োর বর্ণনা করা স্থানে ।

সেখানে পৌঁছে দেখলাম, নিশ্চিত এখানে কিছু একটা মাটি চাপা দেয়া হয়েছে । কিন্তু কী ? আমরা জানি না । মাটি খুড়তে বলছে অফিসার । কেউ সাহস পাচ্ছে না । আমি একটা শাবল দিয়ে খোড়া শুরু করলাম । অল্প কিছু খোড়ার পরেই বেড়িয়ে এলো জিয়ার রক্তমাখা লাশ । আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো স্যারের দেহখানি তুলবার । 


ততক্ষনে হাবিলদার ইউনুসের চোখ ছলছল করছে । অনেক আগের কথা সব মনে নেই । ভাঙ্গা ভাঙ্গা যা মনে ছিলো বললাম । ------হাবিলদার ইউনুস (সাতক্ষিরা)

শনিবার, ৩০ মে, ২০১৫

ইহরাম অবস্থায় নিসিদ্ধ কাজ সমুহ

ইহরাম বাধার পূর্বে ভালোভাবে নিজেকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে । প্রয়োজন হলে মাথার চুল, দাড়ি, গোঁফ, হাতের নখ ও দেহের গোপন স্থানের পশম পরিস্কার করে তারপর গোসল করে ইহরামের কাপড় পরতে হবে । তারপর দুই রাকায়াত নফল নামায [নামাযে প্রথম রাকায়াতে সুরা ক্বাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকায়াতে সুরা ইখলাস পড়া উত্তম ।]   আদায় করে তালবিয়া পাঠ করতে হবে । ইহরাম বাধার পরে এমন অনেক কাজ আছে যা হালাল, কিন্তু ইহরাম অবস্থায় এসব কাজ নিসিদ্ধ হয়ে যায় ।
পুরুষগণ কোন সেলাই যুক্ত কাপড় পরিধান করতে পারবেন ন আ। মাথা ও মুখমন্ডল পুরুষগণ আবৃত করতে পারবেন না । পায়ের উপরিভাগ আবৃত হয়ে যায় এমন পাদুকা ব্যবহার করতে পারবেন না । চুল, দাড়ি, গোঁফ, হাতের নখ ও দেহের গোপন স্থানের পশম কাটতে পারবেন না । আতর, সেন্ট, স্প্রে,  সুগন্ধি বা ঘ্রানযুক্ত তেল্ব্যবহার করতে পারবেন না ।  যৌনাচার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে । যৌন উত্তেজনা মুলক সকল কথা ও আচরন থেকে বিরত থাকতে হবে । আজেবাজে কোন আলোচনা  করা যাবে না । হাস্য কৌতুক থেকে বিরত থেকে, সময়ের প্রত্যেক মুহূর্ত মহান আল্লাহর স্মরণে অতিবাহিত করা উচিত । কুরআন তেলাওয়াত, তাসবীহ, তাহলীলের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা উচিত । যাদের ধুমপানের অভ্যাস রয়েছে এ সময়ে ধুমপান পরিহার করাই উত্তম ।
কোনো ধরনের শিকার করা যাবে না বা কোনো প্রানীও হত্যা করা যাবে না । এমনকি মশা, মাছি, পিপড়া, ছাড়পোকা বা অন্য কোন ক্ষুদ্র প্রানীও হত্যা করা যাবে না । কারো সাথে ঝগড়া, বিবাদ বা মারামারিতে লিপ্ত হওয়া যাবে না । কারো মনে আঘাত দিয়ে কথা বলাও অনুচিত । চুল দাড়িতে চিরুনী ব্যবহার বা হাতের আঙ্গুল দিয়ে খেলাল করাও যাবে না । কারন এতে চুল দাড়ি ছিড়ে যাবার আশংকা থাকে । দেহের কোথাও চুলকালে এমন সতর্কভাবে হাতের তালু দিয়ে নাড়াতে হবে যে, দেহের পশম যেনো ছিড়ে না যায় । সাবান ব্যবহার করা যাবে না । সকল ধরনের গুনাহের কাজ ও কথা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে । কারো দোষ ত্রুটি বর্ণনা করা যাবে না । কারো গীবত করা যাবে না । কারো নিন্দা বা বদনাম করাও যাবে না । কোনো খাদ্য মুখে ভালো না লাগলে, খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো কিন্তু উক্ত খাদ্যের বদনাম করা যাবে না । তবে দেশ জাতি, নিজের সংসার, সন্তানাদি ও ব্যবসা সংক্রান্ত কথাবার্তা বলা যাবে ।  ---(চলবে)
"শারঈ' মানদন্ডে
দোয়া-যিকির, হজ্জ ও উমরা
"
Shameem Sayedee- শামীম সাঈদী

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০১৫

৬২ বছর আগে হজ যেমন ছিল

হজ্জ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । হাজার বছর ধরে বিশ্বের সামর্থ্যবান মুসলমানরা হজ্জ পালন করে আসছেন । তবে সব সময়ই সবকিছু একই রকম থাকেনি । দিনে দিনে হজ্জ পালনের স্থানগুলোতে পরিবর্তন এসেছে । পরিবর্তন এসেছে স্থাপনাগুলোতেও ।
দেখে নিন ১৯৫৩ সালে হজ্জ পালন কীভাবে হতো । যদিও মাত্র ৬২ বছরের ব্যাপার, তবু পরিবর্তন কিন্তু কম হয়নি । বছর বছর হজ্জ করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলায় অনেক কিছুতেই আনতে হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন । ছবিগুলো ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের একটি পুরনো সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল
 অনেক হজ্জযাত্রী মক্কা যেতেন ফেরিতে বা জাহাজে করে । ওই সময় বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন ছিল শুরুর পর্যায়ে, আজকের দিনের মতো সব জায়গায় তা সহজলভ্য ছিল না ।
 যাঁদের সামর্থ্য ছিল, তাঁরা আশপাশের দেশ থেকে ছোট ছোট বিমানে করে যেতেন মক্কায় ।
 আজকের দিনের মতোই কোচে বা বাসে চড়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতেন হজ্জে যাওয়া লোকজন । 
 হজ্জ পালনের স্থানগুলোতে শুধু মুসলিমরাই প্রবেশ করতে পারে । 
 পবিত্র মসজিদের চারপাশে দেখা যাচ্ছে বাড়িঘর ও হোটেল । মসজিদটির সম্প্রসারণের জন্য এসব ঐতিহাসিক ভবনের অধিকাংশই ধ্বংস করতে হয়েছে ।
 মসজিদুল হারামের একটি প্রবেশপথ ।
 মসজিদুল হারামের প্রবেশপথের বাইরে নামাজরত মুসল্লি ।
 ওই সময়কার পবিত্র কাবাঘরের একটি ছবি ।
 পবিত্র কাবা ও মাতাফ এলাকা । তখন বাড়তি কোনো ফ্লোর (তলা) ছিল না ।
 হাজি, মুসল্লিরা তখন কাবাঘরে প্রবেশ করতে পারতেন ।
 এখনকার মতো ভিড় থাকত না, তাই তাওয়াফ ছিল সহজ ।
 মসজিদুল হারামের কাছে বাজার ও দোকান ।
 মসজিদুল হারামের কাছে বাজার ও দোকান ।
মসজিদুল হারামের কাছে বাজার ও দোকান ।
 পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবহার হতো ঘোড়া আর ঘোড়ার গাড়ি ।
 কোরবানির জন্য পশু পছন্দ করে কিনতে পারতেন সব হাজী ।
 হজের সময় কেনা পশু নিজেদের কাছে রাখা যেত ।
 কেনা উটের পাশে নামাজরত হাজী ।


মিনায় আগুন কিংবা স্টোভ ব্যবহার করে নিজেরাই রান্না করতে পারতেন হজে যাওয়া মুসলিমরা ।
 আরাফাত পর্বতের পাশে আরাফাতের ময়দানে টাঙানো কিছু তাঁবু ।
জামারাত হিসেবে ছিল ছোট ছোট স্তম্ভ; শয়তানের প্রতীক হিসেবে যেখানে ঢিল ছোড়া হতো ।


মাথা মুড়াচ্ছেন এক হাজী ।

বদলী হজ্জ ও তার শর্তাবলীঃ

শারীরিক দিক দিয়ে অপারগ হলে হজ্জ আদায়ে ইচ্ছুক নারী বা পুরুষ আরেকজনকে প্রতিনিধি নিয়োগ করে হজ্জ আদায় করতে পারেন, এ প্রক্রিয়াকেই বদলী হজ্জ  বলে । কেউ কাউকে প্রতিনিধি করে পাঠালে যার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করা হচ্ছে, ইহরামের সম তার পক্ষে হজ্জের নিয়ত করতে হবে । ইসলামী চিন্তাবিদগণ বদলী হজ্জ করার বেশ কিছু শর্তের  কথা উল্লেখ করেছেন । এসব শর্তের সাথে কোন কোন চিন্তাবিদ ঐক্যমত পোষণ করেছেন কেউ কেউ আবার দ্বিমতও পোষণ করেছেন ।

কেউ বলেছেন, হজ্জ ফরজ হয়েছিলো এমন ব্যক্তি যদি ইন্তেকাল করে, তাহলে তার পক্ষ থেকে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে ব্যয় করে বদলী হজ্জ করা যাবে । কেউ বলেছেন, মৃত ব্যক্তি যদি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায়ের অসিয়ত করে যায় তাহলেই কেবল বদলী হজ্জ করা যাবে ।
বদলী হজ্জ যিনি করতে যাচ্ছেন, তাকে অবশ্যই নিয়ত করতে হবে যে, আমি অমুকের পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করতে যাচ্ছি । যার পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ করা হচ্ছে, হজ্জের সমুদয় ব্যায়ভার তাকেই বহন করতে হবে । ---(চলবে)
"শারঈ' মানদন্ডে
দোয়া-যিকির,হজ্জ ও উমরা"
Shameem Sayedee - শামীম সাঈদী