মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

হাজারে আসওয়াদ : বেহেশতি পাথরঃ


হজ্জ বা উমরাহ করার সময়  হাজী সাহেবদের কালো পাথরের দিকে বিশেষ আগ্রহ থাকে । সবাই একে চুমু খাওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন । এর নাম হাজারে আসওয়াদ । বেহেশতি এই কালো পাথরটি (এখন অবশ্য কয়েকটি খণ্ডে বিভক্ত) কাবা শরিফের পূর্ব কোনে লাগানো । এত চুমু খাওয়ার ফজিলত অত্যন্ত বেশি। হযরত উমর  রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছিলেনঃ ‘আমি জানি তুমি একটা পাথর, তোমার উপকার বা ক্ষতি করার কোনো ক্ষমতা নেই । যদি আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তোমার গায়ে চুমু দিতে না দেখতাম, তবে আমি কখনো তোমাকে চুমু দিতাম না ।’
এই পাথরকে চুমু দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর রাসুলের আনুগত্য করা । এই চুমু খাওয়া সুন্নত। 
হাজারে আসাওয়াদের আভিধানিক অর্থ হলো কালো পাথর । তবে অনেক হাদীসে একে সাদা রঙের পাথর বলে উল্লেখ রয়েছে ।
আল্লামা আবু আবদুল্লাহ আল-ফাকেহি তাঁর ‘আখবারে মক্কা’ গ্রন্থে হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেনঃ (হাদীসটির সনদ দুর্বল) এতে বলা হয়েছেঃ 
রাসুলুল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি জাহেলিয়াতের অপবিত্রতা ও নাপাকি এবং জালেম ও পাপিষ্টদের হাতের কালিমায় হাজারে আসওয়াদ কলুষিত না হতো, তাহলে এর মাধ্যমে সব পঙ্গুত্বের চিকিৎসা হতো এবং আল্লাহ প্রথম দিন একে যে আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন হুবহু সেই আকৃতিতেই পাওয়া যেত । আল্লাহ এর রং পরিবর্তন করে এই জন্যই কালো করে দিয়েছেন যে, দুনিয়াবাসী মানুষ যেন বেহেশতের সৌন্দর্য (দুনিয়াতে বসেই) দেখতে না পায় এবং এটা যেন বেহেশতের মধ্যেই ফিরে আসে । এটি বেহেশতের সাদা ইয়াকুত পাথরের একটি । আদিপিতা হযরত আদম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীতে পাঠানোর সময় আল্লাহ তা কাবা শরিফের স্থানে রেখে দিয়েছিলেন ।
কাবাঘর নির্মাণের সময় ফেরেশতারা হযরত ইব্রাহিমকে আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাথরটি এনে দিলে তিনি কাবাঘরের দক্ষিনকোনে স্থাপন করেন । মাতাফ বা জমিন থেকে ১.১০ মিটার উচ্চতায় হাজরে আসওয়াদ স্থাপিত । রাসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়্যতের আগে কুরাইশরা কাবাঘর সংস্কারের সময় তিনি নিজ হাতে পাথরটিকে যথাযথ স্থানে রেখে সম্ভাব্য সঙ্ঘাত এড়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন ।
পাথরটি অবশ্য অটুট থাকেনি । হযরত আবদুল্লাহ বিন যোবায়েরের শাসনামলে কাবা শরিফে আগুন লাগে । এ সময় হাজারে আসওয়াদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিন টুকরা হয়ে যায় । তিনি এটিকে রূপা দিয়ে মুড়িয়ে দেন ।


হাজরে আসওয়াদ চুমু দেয়ায় অনেক ফজিলত রয়েছে । তিরমিজী শরীফের এক হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামিনী স্পর্শ করা গুনাহের কাফফারা স্বরুপ । আখিরাতের ময়দানে হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামিনী তাদের পক্ষে কথা বলবে যারা তা স্পর্শ করেছে বা চুমু দিয়েছে । 
রাসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ পাথরে চুমু দেয়ার উদ্দেশ্যে যারা এগিয়ে যায় তাদের প্রত্যেক কদমে কদমে গুনাহ ক্ষমা করা হয় । 
তবে ধাক্কা ধাক্কি করে, অন্যকে কষ্ট দিয়ে, শক্তি প্রয়োগ করে হাজরে আসওয়াদ কিংবা রুকনে ইয়ামিনীর কাছে গিয়ে স্পর্শ বা চুমু দেয়া যাবে না । বেশী ভীড় থাকলে দূর থেকে ইশারার মাধ্যমে চুমু দিলেই সাওয়াব পাওয়া যাবে । 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন